Slideshow


মহাভারত-মহাসাগর

রাহুল সিনহা'র মহাভারত-মহাসাগর 

পর্ব:তিন

ঘোর যুদ্ধফল

মহাভারতের যুদ্ধ ১৮ দিনের। মহাভারত আজ আমরা যেমনটা পড়ি সেটা অষ্টাদশ পর্বের। কিন্তু যুদ্ধের ফল? তার কি কোনো এমন দিক আছে, যা আমরা দেখেও দেখিনা, কিংবা বুঝেও বুঝিনা?
মহাভারতের কথা'য় বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন,
" যুদ্ধের পর অন্য এক জগতে আমরা প্রবেশ করি। পঞ্জিকায় আঠারোটি মাত্র দিন- কিন্তু তারই মধ্যে ঘটনার স্রোত যুগান্তর- সীমা উত্তীর্ণ হ'লো। সব সফল অগ্রহায়ণের সমস্ত সোনালি শস্য উৎপাটন ক'রে কর্তক তার পুরাতন ধামে ফিরে গেলো, আর এখন সেই শূন্য রুক্ষপ্রান্তের উপর ধূসর হ'য়ে নেমে আসছে সন্ধ্যা - এমন এক সন্ধ্যা, যার পরে আর প্রভাত হবে কিনা কেউ জানে না। "
মহাভারতের কবি আসলে এই যুদ্ধেরই কাহিনি লিখেছেন 'জয়' কাব্যে। সে কথা এর আগের  লেখায় বলার চেষ্টা করেছি।


কিন্তু এই যুদ্ধ আসলে কাদের মধ্যে?  কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে?  নাকি আসলে যুদ্ধটা পাণ্ডবদের নয়? আর সেই যুদ্ধে আসলে জিতলো কারা? বা সহজ কথায় বললে এই ঘোর যুদ্ধফলে কার হাতে গেলো হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থের রাজ্যপাট?  নেপথ্যে কি অন্য কোনো উপাখ্যান, যার জন্ম যুধিষ্ঠির, দুর্যোধনাদির জন্মেরও বহু আগে?  সেই  কোন পুরনো বংশলতিকার কোনো একটি বিচ্ছিন্ন অংশ যা মূল রাজ্যের ওপর অধিকার হারিয়েছিলো, তারই পুনরাধিকারই কিএই ঘোর যুদ্ধফলের হাত ধরে ফের প্রতিষ্ঠা পেলো হস্তিনাপুরে?  আর তার হাত ধরে  আসলে শর্মিষ্ঠা আর দেবযানীর চিরকালীন দ্বন্দ্বে দেবযানীর বংশধরেরা জয়ী হলো?

পাঠক ভাবতেই পারেন,  আমি মহাভারতের নামে হেঁঁয়ালি ফেঁঁদে বসেছি। কিংবা খেয়ালখুশি মতো স্বকপোলকল্পিত গপ্পো শোনাতে চাইছি। এমনটা ভাবলে আমি নাচার। কিন্তু যা বলতে চাইছি তাতে আমার নিজের ব্যাখ্যাটুকু বাদ দিলে সবটাই মহাভারতের ও তার সম্পর্কিত পুরাণের কাহিনি।  তবে অনেক পুরনো আর জটিল বলে হয়তো সহজে আমার, আপনার চোখে ধরা পড়ে না।

আমার বক্তব্য এই লেখায় দুটো। প্রথম বক্তব্য,  মহাভারতের যুদ্ধ আসলে কুরু-পাণ্ডব যুদ্ধ নয়। বরং অনেক বেশি মাত্রায় সেটা কুরু-পাঞ্চাল যুদ্ধ। দ্বিতীয়ত, কৌরব-পাণ্ডব বা কৌরব - পাঞ্চাল, যুদ্ধটা যাদের মধ্যেই হোক তার ফল হিসেবে,  ১৮ দিনের যুদ্ধের দূরগামী পরিণতিতে হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থের সিংহাসন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যদুবংশীয়দের করতলগত হয়েছে। সেই যদু, যযাতি ও দেবযানীর বিবাহজ জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে যার  হস্তিনাপুর রাজবংশের উত্তরাধিকারী হবার কথা ছিলো।  প্রথম গল্পটা ফের কখনো বলার চেষ্টা করবো। আপাতত  দ্বিতীয় গল্পটায় আসা যাক।

এসব মহাভারতে খুব ভালো করেই লেখা আছে যে কৌরব ও পাণ্ডবদের এক পূর্বপুরুষ ছিলেন রাজা যযাতি। তাঁঁর দুই রানি দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা।  দেবযানীর পিতা দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য, আর শর্মিষ্ঠা দানবরাজ বৃষপর্বার মেয়ে। দেবযানীর একটু পরিচয় যাঁরা 'বিদায় অভিশাপ' পড়েছেন তাঁঁরা জানেন।  দেবতা আর দানবদের যুদ্ধে বারবার দেবতারা হেরে যেতেন, কারণ যুদ্ধে কোনো দানবের মৃত্যু হলেই দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাকে বাঁঁচিয়ে তুলতেন।  সুতরাং দেবতারা তাঁঁদের গুরু বৃহস্পতির ছেলে কচকে পাঠালেন শুক্রাচার্যের শিষ্য হয়ে সেই বিদ্যা শিখে নেবার জন্য।  কারণ সেটা হলেই দেবতা আর দানবদের পাল্লা সমান সমান হয়। তার মানে হলো দেবতা আর দানবদের মধ্যে ফারাক তেমন কিছু ছিলো না। বরং  সমকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনার্যরা আর্যদের চেয়ে খানিকটা এগিয়েই ছিলেন।  সুতরাং কচ এসে যোগ দিলেন শুক্রাচার্যের আশ্রমে। কিন্তু এসে ঢুকলেন আর প্রার্থিত বিদ্যালাভ করে চলে গেলেন, এমনটা সেসময় হতোনা।  সেটা আরুণি- উদ্দালক, উতঙ্কদের কাহিনি যারা পড়েছেন, তাদের জানা আছে।

সে যাই হোক,  কচকেও গুরুগৃহে নানারকম কাজ করতেই হতো। তাতে গুরু সন্তুষ্ট হলে তবে তো বিদ্যালাভ!  কিন্তু কচ যে দেবতাদের চর হয়ে এসেছেন  গোপন বিদ্যা শিখে নেবার জন্যে সেটা জানার পর তাঁঁকে বেশ কবারই মেরে ফেলে দানবরা। প্রতিবারই দেবযানীর অনুরোধে শুক্রাচার্য কচকে বাঁঁচিয়ে তোলেন। শেষ অবধি তাকে মেরে,  শরীর পুড়িয়ে ছাই করে মিশিয়ে দেওয়া হলো মদের সঙ্গে। সেই মদ শুক্রাচার্য খেয়ে ফেললেন।  এবার দেবযানীর  অনুনয়ে কচকে বাঁঁচাতে গেলে পেট ফেটে গুরু নিজেই মরবেন।  সুতরাং নিজেকে বাঁঁচাতেই কচকে সেই বিদ্যা শেখাতে হলো। এই সুযোগে বিদ্যা শিখে কচ যখন বিদায় চাইলেন, তখন দেবযানী নিজের প্রণয়ের কথা বললেন, কিন্তু কচ গুরুকন্যা বলে দেবযানীকে ফিরিয়ে দিলেন।  তারপর তাদের মধ্যে অভিশাপ বিনিময় হলো৷ সেই অভিশাপের জেরে আর কোনো ঋষি বা ব্রাহ্মণের সঙ্গে বিয়ে হলোনা দেবযানীর।  দেবযানীর সখী দানবরাজকন্যা শর্মিষ্ঠা। দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হলো। শর্মিষ্ঠা কুয়োতে ঠেলে ফেলে দিলেন দেবযানীকে। সেই কুয়ো থেকে তাকে টেনে তুললেন যযাতি। বিয়ে হলো রাজা যযাতির সঙ্গে। তার সাথে দাসী হিসেবে গেলেন দানবরাজ বৃষপর্বার মেয়ে শর্মিষ্ঠা।  এরপরের গল্প সবাই জানেন।  শুক্রাচার্যের নিষেধ ছিলো যযাতি যেন শর্মিষ্ঠার দিকে হাত না বাড়ান। কিন্তু যযাতি সে কথা মানলেন না। দেবযানীর গর্ভে তাঁঁর দুই ছেলে যদু এবং তুর্বসু। শর্মিষ্ঠার গর্ভে তিন ছেলে দ্রুহ্য,  অনু এবং পুরু। এটা জানাজানি হবার পর শুক্রাচার্য যযাতিকে হাজার বছর জরা ভোগ করার শাপ দিলেন।  কিন্তু রাজার আকুতিতে একটা ছাড়ও দিলেন।  হাজার বছরের এই জরা যে পুত্র নিতে রাজি হবে, সেই পুত্রই রাজার উত্তরাধিকারী হবে। রাজা নিজের যৌবন এবং ভোগবাসনা দীর্ঘায়িত করতে ছেলেদের জরা নিতে বললেন।  কিন্তু যদু, তুর্বসু, দ্রুহ্য বা অনু কেউই এই ভার নিলেন না। নিলেন সবার ছোটো ছেলে পুরু। সুতরাং রাজ্যও পেলেন তিনি।  যার দরুণ কৌরব বংশের আরেক পরিচয় পৌরব বলেও। ফাঁকতালে যযাতির বড় ছেলে যদুকে পিতৃরাজ্য খোয়াতে হলো। তিনি আলাদা রাজবংশের সৃষ্টি করলেন। সেটাই যদুবংশ। 

সুতরাং এ থেকে তিনটে  বিষয় পরিষ্কার।  এক, বড় ছেলে হলেই রাজা হওয়া যাবে, তেমনটা নাও হতে পারে। দুই, ব্যাসদেবের আগেও বর্ণসংকর ভালোভাবেই সমাজে প্রচলিত ছিল। না হলে ক্ষত্রিয় যযাতি আর ব্রাহ্মণকন্যা দেবযানীর প্রতিলোম বিবাহে শুক্রাচার্য মত দিতেন না। তিন, শুক্রাচার্য যে যযাতিকে নিষেধ করলেন শর্মিষ্ঠাকে শয্যায় না ডাকতে মানে বিয়ে না করতে তাতে বোঝা যায়,  সে সময়ে আর্য এবং অনার্যরা আর কথায় কথায় যুদ্ধ করেনা। বরং দুই সমাজের মধ্যে আদান-প্রদান বেড়েছে। ফলে আর্যদের রাজা যযাতি দানব (পড়ুন অনার্য) রাজা বৃষপর্বার মেয়েকে বিয়ে করলে সমাজ সেটাকে অস্বীকার করবে না।  বরং আর্যা রানি দেবযানীর ছেলে যদুর বদলে যযাতি যে অনার্যা রানি শর্মিষ্ঠার সবচেয়ে ছোটো ছেলে পুরুকে রাজত্ব দিলেন, সেটা শুক্রাচার্য নিজেও অনুমোদন করেছেন। 

এই যদুবংশীয়দের এত বিভিন্ন শাখা যে সেসবের হিসাব করাও মুশকিল।  তবে এরা মূলত রাজত্ব করেছেন বেত্রবতী, চর্মণ্বতী এবং শুক্তিমতী মানে এখনকার বেতোয়া, চম্বল এবং কেন নদীর অববাহিকা এলাকায়। তাদের সঙ্গে পৌরব বা কৌরবদের যুদ্ধ বিগ্রহও হয়েছে। সেটা এলাকা দখলের লড়াই। কুরুবংশ যেমন দিল্লি, এলাহাবাদ এলাকায়  মানে গঙ্গার  পশ্চিম  তীর ঘেঁষে  রাজত্ব করেছে, তেমনি যাদবদের মূল এলাকা মথুরা,  মালব  এমনকি বিন্ধ্যাচলের দক্ষিণের কিছু অংশ। শতপথ ব্রাহ্মণে আছে রাজা ভরত যদুবংশীয় সাত্ত্বতের (হয়তো সাত্ত্বত নয়, তার বংশের অন্য কোনো রাজা) অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া কেড়ে নিয়েছেন।

 সুতরাং এটা স্পষ্ট যে হস্তিনাপুরের সিংহাসন থেকে নাম কাটা গেলেও যাদবরা সেই সিংহাসনের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা বারবার করেছেন। পরবর্তী সময়ে যাদবদের ক্ষমতা মূলত মথুরা, বৃন্দাবন এলাকায়ও ছড়ালো।  অন্যদিকে পূর্ব ভারতের মগধ জরাসন্ধের হাত ধরে একটি শক্তিশালী রাজ্য হয়ে উঠলো। যাদবদের রাজা কংস জরাসন্ধের দুই মেয়েকে বিয়ে করায় মথুরা এবং মগধ কাছাকাছি এলো। বা বলা উচিৎ,  যাদবদের অন্য অংশের আপত্তি থাকলেও জরাসন্ধের বলেই কংস যাদবদের রাজা হলেন।  ( সমাশ্রিত্য জরাসন্ধম্ অনাদৃত্য চ যাদবান্-- হরিবংশ) আগের রাজা উগ্রসেন এবং তার জামাই বসুদেবকে কারাগারে আটকে রাখলেন। যাদবদের আরো দুটি শাখা যারা চেদি, বিদর্ভ এলাকায় রাজত্ব করতেন তারাও কংস এবং জরাসন্ধের পাশে এলেন। 

এবার আমরা একটু হস্তিনাপুরের দিকে তাকাবো। ভীষ্ম তখন কুরু সিংহাসনের custodian।  হস্তিনাপুরের সিংহাসনকে চারদিক থেকে বিপদমুক্ত রাখাই তাঁঁর লক্ষ্য। বিশেষ করে যখন পূর্বদিকে মগধ আর দক্ষিণে পাঞ্চাল এই দুই শক্তিশালী শত্রু রয়েছে। সেজন্য পুরনো শত্রুতা ভুলে তিনি পাণ্ডুর রানি হিসেবে নিয়ে এলেন যাদবদের মেয়ে পৃথাকে যিনি রাজা কুন্তিভোজের পালিতা কন্যা বলে কুন্তী নামেও পরিচিতা। এই সূত্র ধরেই হস্তিনাপুরের রাজনীতিতে ফের মাথা গলাবার সুযোগ পেলেন যাদবরা।

এবার মূল মহাভারতের কাহিনির দিকে তাকান। বারণাবতে জতুগৃহে আগুন দিয়ে পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হলো। কংসের মৃত্যুর পর মথুরা ও পরে দ্বারকায় তখন কৃষ্ণই যাদবদের মূল পরিচালক। তিনি সে খবর পেলেন। বারণাবতে এসে খোঁজ খবর নিয়ে গেলেন।  দ্রৌপদীর স্বয়ংবরসভায় অর্জুন লক্ষ্যভেদ করে জয়ী হবার পর পাণ্ডবদের গোপন আবাসে গিয়ে আত্মপরিচয় দিলেন।  পাঞ্চালদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক এবং কৃষ্ণের নেতৃত্বে যাদবদের সখ্য  এই দুই রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন পাণ্ডবদের পক্ষে থাকায় ধৃতরাষ্ট্র এদের রাজ্যের ভাগ দিতে বাধ্য হলেন। 

খাণ্ডবপ্রস্থের অনুর্বর,  বনাকীর্ণ এলাকায় পাণ্ডবরা নতুন রাজধানী গড়লেন।  গড়লেন নাগবংশীয় তক্ষককে এলাকাছাড়া করে। সেই শত্রুতার জেরে তক্ষকের ( হয়তো তার বংশের কোনো অধস্তন পুরুষের) হাতে অর্জুনের বংশধর পরীক্ষিৎ এর মৃত্যু। অর্জুন ১২ বছরের ব্রহ্মচর্যে গেলেন। তার শেষ পর্বে রৈবতক, প্রভাস তীর্থে (যাদবদের এলাকায়) । সেখানে কৃষ্ণের মদতেই সুভদ্রার সঙ্গে তাঁঁর বিয়ে হলো। পাশাখেলায় হারের আগে এবং পরেও সৌভদ্র অভিমন্যুর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা দ্বারকায় যাদবদের আশ্রয়ে। এভাবেই কৌরবদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুবাদে বংশের পাণ্ডব শাখাটির একটি প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠলো যাদবরা, যাদের প্রথম পুরুষ যদু তার বাবা যযাতির যৌবন ভোগ করার মোহের কারণে পিতৃরাজ্যের অধিকার হারিয়েছিলেন।

যদিও ঘটোৎকচকে বাদ দিয়ে অভিমন্যুই পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ সন্তান,তবুও  কুরুযুদ্ধের ফলাফলে যদি অভিমন্যুর মৃত্যু না হতো, তাহলেও যুধিষ্ঠিরের পর তিনিই যে পাণ্ডবদের উত্তরাধিকারী হতেন, এমনটা বলা মুশকিল, তার কারণ তিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের পুত্র নন, তাছাড়া যাদবকূলের সমর্থন যদি তার পেছনে থাকে, তবে যুধিষ্ঠির ও দ্রৌপদীর পাঁচ ছেলের মধ্যে  বড় যিনি, সেই প্রতিবিন্ধ্যকে সমর্থন করার জন্য সোমক পাঞ্চালরাও থাকতেন।  কিন্তু যুদ্ধের ত্রয়োদশ দিনে অভিমন্যুর মৃত্যু হলো। 

এবার সৌপ্তিক পর্বে আসুন। গভীর রাতের অন্ধকারে অশ্বত্থামা প্রথমে পাণ্ডবদের প্রধান সেনাপতি ধৃষ্টদ্যুম্নকে হত্যা করলেন। তারপর উত্তমৌজা এবং যুধামন্যু নামের দুই পাঞ্চাল বীরকে হত্যা করলেন। তারপর দ্রৌপদীর পাঁঁচ ছেলে এবং শিখণ্ডীকেও বধ করলেন। পরদিন  পাণ্ডবরা অশ্বত্থামার পিছু ধাওয়া করলেন, অর্জুন ও অশ্বত্থামা একে অন্যের বিরুদ্ধে ব্রহ্মশির অস্ত্র চালনা করলেন। অর্জুন নিজের অস্ত্র প্রত্যাহার করে নিলেন।  কিন্তু অশ্বত্থামা করলেন না। সেই অস্ত্র গিয়ে আঘাত করলো উত্তরার গর্ভে অভিমন্যুর অজাত সন্তানকে। কৃষ্ণ সেই মৃত শিশুকে জীবন দিলেন। ভরতবংশ পরীক্ষিণ হলে এই শিশুর জন্ম তাই নাম হলো পরীক্ষিৎ। সেই পরীক্ষিৎই পাণ্ডবদের পরে হস্তিনাপুরের সিংহাসন পেলেন।  অর্থাৎ সুভদ্রার বংশবীজ হয়ে ফের বহু পুরুষ পরে হস্তিনাপুর যাদবদের নিয়ন্ত্রণে এলো। অন্যদিকে মূষলপর্বে প্রায় সম্পূর্ণ যদুবংশ ধ্বংস হলে অর্জুন অবশিষ্টদের নিয়ে এলেন। যুধিষ্ঠির মহাপ্রস্থানের আগে একদিকে হস্তিনাপুরে পরীক্ষিৎকে অন্যদিকে ইন্দ্রপ্রস্থে যাদবদের শেষ বংশধর কৃষ্ণপৌত্র বজ্রকে অভিষিক্ত করে গেলেন। ফলে যে উত্তর ভারতের আধিপত্যের জন্য এই  যুদ্ধ,  তার ঘোর যুদ্ধফলে সেই  উত্তর ভারতে শেষ অবধি পশ্চিম ভারতের দ্বারকা থেকে আসা যাদবরাই সর্বেসর্বা হয়ে গেলেন। তবে কি মহাভারত একদা বাবার আদেশে রাজ্যচ্যূত  যদুর বংশধরদের ফের হস্তিনাপুর দখল করার কাহিনি?  নাকি সপত্নীর পুত্রকে রাজ্য পেতে দেখা দেবযানীর সঙ্গে মহাভারতের কবির poetic justice?  

বাকি অংশ পরের পর্ব

No comments:

Post a Comment