Slideshow


রাহুল সিনহা'র মহাভারত  মহাসাগর ৫

মহাকাব্যে উপেক্ষিত

তাঁর জন্মের পর পিতামহী বলেছিলেন, "বৎস, তুমি  কুরুকুলে জন্মেছ, তুমি সাক্ষাৎ ভীমের তুল্য এবং পঞ্চপাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তুমি আমাদের সাহায্য করো।" পঞ্চপাণ্ডবের প্রয়োজনের সময়ে তাঁকে সর্বদাই আমরা উপস্থিত থাকতে দেখেছি। তাঁর ভয়াবহ যুদ্ধকৌশল কর্ণের মতো বীরকেও বিচলিত করেছে, বাধ্য করেছে  নিজের অস্ত্রাগারের  সবচেয়ে ঘাতক আয়ুধ প্রয়োগ করতে। যার ফলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন অর্জুন।  কিন্তু বংশের জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে  সিংহাসনের ন্যায্য উত্তরাধিকার তো নয়ই, এমনকি যে উপযুক্ত  সমাদরটুকু পাবার কথা, তাও  তিনি কখনও পেলেন না।  তাঁর জননী মহারাজ  পাণ্ডুর বংশের প্রথম পুত্রবধূ হিসেবে  কখনও হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে পা রেখেছেন, এমন কোনো উল্লেখ মহাভারতের কবি দেননি।  বরং  তাঁর বীরোচিত মৃত্যুর পর কৃষ্ণকে উল্লাস করতে দেখা গেলো। এই অরণ্যবাসী অনার্য মানুষটি মহাকাব্যে চির উপেক্ষিতই থেকে গেলেন। 



 বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, আমি ঘটোৎকচের কথা বলছি। মা রাক্ষসী হিড়িম্বা। বাবা মধ্যম পাণ্ডব ভীম।  গঙ্গার দক্ষিণ পাড়ের অরণ্য প্রদেশের অধিপতি রাক্ষস হিড়িম্ব তাঁর মামা। বারণাবতের লাক্ষাগৃহের আগুন থেকে রক্ষা পেয়ে পাণ্ডবরা নৌকায় গঙ্গা পার হয়ে দক্ষিণদিকে গেলেন।  বনে জঙ্গলে ঘুরতে লাগলেন।  একরাতে যত দূরেই যান সেটা আর্যাবর্তের বাইরে নয়। আমাদের অনুমান, উত্তরাপথের শহর ও গ্রামে আর্য বসতির বিস্তার ততদিনে হলেও বনাঞ্চলে এই দেশের আদিম মানুষদের প্রভাব তখনও ক্ষীণ হয়নি। তারা রাক্ষস, দৈত্য, দানব নন। বরং বনবাসী অনার্য মানুষ। বেদের সময় থেকে বহিরাগত আর্যরা এদের মনুষ্যেতর জ্ঞানেই রাক্ষস, অসুর এসব নামে আলাদা করে চিহ্নিত করেছেন।

বনের গভীরে শালগাছের ওপর হিড়িম্বর আবাস। তার মানে সম্ভবত এরা বৃক্ষমানব। গাছের ওপর তৈরি বাড়িতে  থাকেন।  সেখানে বসেই হিড়িম্ব কুন্তী ও তাঁর পাঁচ ছেলেকে দেখতে পান। মহাভারতে হিড়িম্ব তার বোন হিড়িম্বাকে এদের বধ করে খাবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বলে যে বিবরণ আছে, তা কতটা সত্যি, কতটা অনার্যদের সম্পর্কে আর্যদের কপোলকল্পিত প্রচার সেটা বলা কঠিন।  তবে মহাভারতে হিড়িম্বের মুখে এটুকু উল্লেখ অবশ্যই আছে যে তুমি শিগগির গিয়ে জেনে এসো এরা কে। এরা আমার অধিকারে (আমার অধিকৃত এলাকায়) নিদ্রিত আছে। আমাদের মতে এটা ঠিক।  নিজের এলাকায় অপরিচিত কিছু লোকজন দেখলে খোঁজখবর নেওয়াই স্বাভাবিক।  হিড়িম্ব সেই খবর বৃত্তান্ত নেবার জন্যেই নিজের বোন হিড়িম্বাকে পাঠিয়েছেন।  হিড়িম্বা যে এদের সন্ধান নিতে এসে ভীমের প্রেমে পড়লেন এবং ভাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন সেটা সবারই জানা।  কিন্তু এই গল্পে হিড়িম্বার যে বর্ণনা মহাভারতের কবি দিয়েছেন,  ভাইকে ছেড়ে মধ্যম পাণ্ডবকে বরণ করার যে কারণ দেখালেন তাতে কোনো রাক্ষসী বা দানবীর নয়, অতি সাধারণ এক মেয়ের মনোভাব স্পষ্ট হয়।


দলত্যাগ করার জন্য হিড়িম্বার মনে যেসব কারণ দেখিয়েছেন ব্যাস,  তাতে কামবাসনা যেমন আছে সেই সঙ্গে একইরকম জোরালোভাবে আছে একটি অনূঢ়া মেয়ের বাপ ভাইয়ের ঘর ছেড়ে নিজের  স্বামীর ঘর করার চিরাচরিত ইচ্ছে।  তাই ব্যাস লিখেছেন, "পতিস্নেহোতিবলবান্ তথা ন ভ্রাতৃসৌহৃদম।" আর্য রমণী নয় বলেই তার মনোগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশও স্বকীয় এবং আদিম।  আর এই নারী মনের ঘর বাঁধার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকেই হিড়িম্বার সোদর ভাইয়ের সঙ্গ ছেড়ে ভীমের কাছে আত্মনিবেদন। এর মধ্যে যদি শুদ্ধবাদীরা হিড়িম্বার রাক্ষস স্বভাব,  বেহায়া কামবাসনার দাসত্ব দেখে তার নিন্দেমন্দ করেন, তবে আমরা বলবো, এই অসংকোচে নিজের মনের কথা স্পষ্ট করে বলতে পারাটা নির্লজ্জতা বা রাক্ষসীয় নয়। বরং এটাই অনার্য,  এদেশের আদিম জনজাতির মানুষের বিশেষত মেয়েদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তাদের সমাজের মেয়েরা আর্যসভ্যতার মেয়েদের চেয়ে অনেক স্বাধীন।  নিজের পছন্দের স্বামী নির্বাচনের অধিকার তাদের বরাবরই ছিলো।  হিড়িম্বা সেই অধিকারেরই প্রয়োগ করেছেন মাত্র।  ঠিক  এই নিয়মেই ভীম আর হিড়িম্বার হাত ধরে কুরুবংশে ফের বর্ণসংকর হলো, অসবর্ণ বিবাহ হলো, ঘটোৎকচের জন্ম হলো।  ফের কথাটা বলার কারণ,  এরও আগে পাণ্ডবদের পূর্বপুরুষ যযাতি দানবরাজ বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠাকে গান্ধর্ব বিবাহ করেছেন।  আর শর্মিষ্ঠার কনিষ্ঠ পুত্র পুরুরই বংশধর আজকের পাণ্ডবরা।


এই পর্যন্ত দেখলে বিষয়টা খুব অস্বাভাবিক নয়।  আর্য পুরুষ ভীমকে অনার্যা হিড়িম্বার ভালো লেগেছে,  তাঁরা বিয়ে করেছেন। তাঁদের সন্তানও জন্মেছে। কুন্তীর কথায় ঘটোৎকচকে পাণ্ডবদের প্রথম সন্তান এবং হিড়িম্বাকে সেই সূত্রে পরিবারের প্রথম বধূ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনো আদিপর্বে রয়েছি। সভাপর্ব থেকে দ্রোণপর্ব অবধি ঘটোৎকচের জীবনকাল। এই বিরাট কালপর্বে প্রথম পাণ্ডবসন্তানের উল্লেখ খুব একটা মিলবে না। আদিপর্বে জন্মের পর ভীমপুত্রের সম্পর্কে আমরা শুধু এটুকুই মহাভারতের কবির কাছে শুনতে পাচ্ছি,  জন্মের পর হিড়িম্বা ঘটোৎকচকে নিয়ে কুন্তী ও পাণ্ডবদের সামনে উপস্থিত করেছেন।  কুন্তীও নিজের জ্যেষ্ঠ পৌত্রকে যথাবিহিত আশীর্বাদ করে বলেছেন, "ত্বং কুরূণাং কুলে জাতো সাক্ষাদভীমসমো হ্যসি। জ্যেষ্ঠঃ পুত্রোহসি পঞ্চানাম...।"  একই নিঃশ্বাসে এই পৌত্রটিকে বলেছেন, প্রয়োজনে তুমি আমাদের সাহায্য করো। এই সম্বোধনে কুন্তী, আমরা বলবো, ঘটোৎকচ ও তার মাকে কুরুকুলের সন্তান ও বধূ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।  কিন্তু তাঁদের পরিবারের সর্বসময়ের সদস্য হিসেবে সঙ্গে থাকতে বললেন না। বরং প্রয়োজনের সময় সাহায্য করতে বলে তার অধিকার এবং কর্তব্যের সীমা চিহ্নিত করে দিলেন।  আমরা বলবো ঘটোৎকচ এই সীমানা ছাড়াননি কখনও।  বরং বংশের প্রথম সন্তান হিসেবে নিজের রাক্ষস পরম্পরায় গর্ব বজায় রেখে বলেছেন,  রাক্ষস রাবণনন্দন ইন্দ্রজিতের মতোই আমি পিতার মতো বলশালী। সুতরাং যখনই দরকার পড়বে আমি পিতার কাছে উপস্থিত হবো (কৃত্যকাল উপস্থাস্যৈ পিতৃনিতি ঘটোৎকচঃ)। এরপর মহাভারতের কবি আমাদের জানিয়েছেন হিড়িম্বা তাঁর ছেলেকে নিয়ে আরও উত্তরের দিকে চলে গেছেন।


এই যে হিড়িম্বা ও তার ছেলে পাণ্ডবদের ছেড়ে নিজেদের অরণ্য-পর্বতের আশ্রয়ে ফিরে গেলেন, তারপর মহাভারতের দীর্ঘ পথচলাতে আমরা তাদের আর দেখা পাইনি, যতক্ষণ পাণ্ডবদের ঘটোৎকচকে প্রয়োজন পড়েনি। এরপর অর্জুন লক্ষ্যভেদ করে দ্রৌপদীর বরমাল্য পেয়েছেন। পাঁচ ভাইয়ের সঙ্গে  দ্রৌপদীর বিয়ে হয়েছে।  পাণ্ডবরা শ্বশুরকূল এবং যাদবকূলের সম্মিলিত শক্তির সহায়তায় পৈতৃক রাজ্যের অর্ধেকটা পেয়েছেন। খাণ্ডবপস্থের বনভূমি জ্বালিয়ে নতুন রাজধানী ইন্দ্রপ্রস্থ তৈরি করেছেন। ময়দানব ইন্দ্রের সভার চেয়েও রমণীয় ও অত্যাশ্চর্য সভা নির্মাণ করে দিয়েছেন।  এরপর গোটা জম্বুদ্বীপের চক্রবর্তী সম্রাট হবার বাসনায় যুধিষ্ঠির রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করেছেন। তাতে গোটা ভারতের রাজসমাজ, ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, শূদ্র সবাই যে যার যুগোপযোগী মর্যাদা অনুযায়ী আমন্ত্রণ পেয়েছেন।  কুরুকুলের সব প্রধান পুরুষরা, যদুকুলের সব দিকপাল বীরেরা আমন্ত্রিত। শুধু আমন্ত্রণ পাননি মহারাজ পাণ্ডুর প্রথম পুত্রবধূ হিড়িম্বা আর পাণ্ডবদের সর্বজ্যেষ্ঠ পুত্র ঘটোৎকচ। অন্তত পেয়েছেন বলে কবি ব্যাস আমাদের জানাননি। পেলে রাজসূয় যজ্ঞের বিশাল আয়োজনের কোথাও আমরা নিশ্চয় ঘটোৎকচ এবং তাঁর জননী হিড়িম্বাকে দেখতে পেতাম।  যদি আমন্ত্রিত হতেন, আর্যদের রাজসভায়  কেমন সমাদর পেতেন এই অনার্য বীর ও তাঁর জননী? ব্যাস বলেননি। কিন্তু ব্যাসের অনেক পরের এক অনার্য কবি বাংলার পয়ার ছন্দে লেখা নিজের কাশীদাসী মহাভারতে তার একটা বিবরণ দিয়েছেন।

হিড়িম্বা দেখিয়া চমকিত অন্তপুরী।/ রূপেতে নিন্দিত যত স্বর্গ বিদ্যাধরী।।

অলঙ্কারে বিভূষিত অনিন্দিত অংগ।/ বিনামেঘে স্থির যেন তড়িত তরঙ্গ।।

কুন্তীর চরণে গিয়া প্রণাম করিল।/ আশীর্বাদ করি কুন্তী বসিতে বলিল।।

যথায় দ্রৌপদী ভদ্রা রত্ন সিংহাসনে।/ হিড়িম্বা বসিল গিয়া তার মধ্যস্থানে।।

অহঙ্কারে দ্রৌপদীরে সম্ভাষ না কৈল।/ দেখিয়া পার্ষতী দেবী অন্তরে কুপিল।।

এই যে বর্ণনাটুকু আমরা পেলাম, তাতে আমরা মনে করি হিড়িম্বা নিজের উচিত কাজই করেছেন। তিনি  ইন্দ্রপ্রস্থে না থাকলেও পাণ্ডবদের পরিবারের প্রথম বধূ। দ্রৌপদীরই কি তাঁকে এগিয়ে এসে সম্মান ও সমাদর জানানো উচিত ছিলো না? বিশেষ করে হিড়িম্বা যখন প্রথমবার এই পুরীতে পা রেখেছেন? কিন্তু সেটা হয়নি।  তার পরে দেখছি আর্যা সম্ভ্রান্ত নারী দ্রৌপদী যে ভাষায় হিড়িম্বাকে আক্রমণ করেছেন  তা কি আদৌ সভ্যজনোচিত? দ্রৌপদী বলছেন,

পূর্বে শুনিয়াছি আমি তোর বিবরণ।/ তোর সহোদরে ভীম করিল নিধন।।

 ভ্রাতৃবৈরী জনে কেহ না দেখে নয়নে।/ কেমনেতে ভজিলি হেনজনে।।

 সতত ভ্রমিস তুই যথা লয় মন।/ একে কুপ্রকৃতি আর নাহিক বারণ।।

স্থানে স্থানে বেড়াস ভ্রমরে যেন মধু।/ সভামধ্যে বসিলি হইয়া কুলবধূ।।

মর্যাদা থাকিতে কেন না যাস উঠিয়া।/ আপন সদৃশ স্থানে তুমি বস গিয়া।।

মূল মহাভারতে এই বিবরণ নেই। তবে কাশীরাম দাসের এই বিবরণ আসলে অনার্যদের প্রতি উদ্ধত আর্যদের মনোভাবেরই প্রতিফলন। যেমনটা আমরা রামায়ণে শম্বুক কিংবা মহাভারতেই একলব্যের সঙ্গে হতে দেখেছি।  সেদিক থেকে ব্যাস যে ঘটোৎকচ এবং হিড়িম্বাকে পাণ্ডবদের রাজসভায় নিয়ে যাননি সেটা হয়তো এমন কোনো ঘটনার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই।

এরপরে আমরা আর হিড়িম্বাকে দেখিনি। ঘটোৎকচকে যুদ্ধের আগে শুধু একবারই বনপর্বে দেখা গেছে।  টেলিভিশনের সিরিয়ালে  ভীম ও ঘটোৎকচের সাক্ষাতের যে চমৎকার গল্পটি আমাদের অনেকেই বহুবার দেখে মুগ্ধ হয়েছি, তার উৎস মূল মহাভারত নয় । বরং সপ্তম শতকের কবি ভাসের লেখা নাটক  মধ্যমব্যায়োগ।  মূল মহাভারতে  পথশ্রমে ক্লান্ত পাঁচ পাণ্ডব ভাই আর দ্রৌপদীকে কাঁধে চাপিয়ে ঘটোৎকচ ও তার সহচররা বদরিকাশ্রমে নিয়ে গেছেন। এর চেয়ে বেশি সময় মহাকাব্যের মহাকবি তাঁর জন্য খরচ করেননি।


এবার চলুন কুরুক্ষেত্রের চতুর্দশ দিনের গভীর রাতের যুদ্ধে। জয়দ্রথ নিধনের পরে ক্রুদ্ধ কৌরব শিবির সূর্যাস্তের পরেও যুদ্ধ জারি রাখতে চাইছে। কর্ণ  কালান্তক যুদ্ধ করছেন। এই সময়ে অর্জুন আর কর্ণের সম্মুখ সমর হলে জন্মজাত কবচ কুণ্ডলের বিনিময়ে ইন্দ্রের থেকে পাওয়া এবং অর্জুনের জন্যই সযত্নে রক্ষিত একাঘ্নী প্রয়োগ করতে পারেন রাধেয়। আর তাকে প্রতিহত করার মতো কোনো আয়ুধ অর্জুনের তূণীরেও নেই। এই সময়েই ঘটোৎকচের কথা মনে পড়েছে  কৃষ্ণের। রাজশেখর বসুর মহাভারত সারানুবাদে আছে,   অর্জুন যখন কর্ণের সঙ্গে যুদ্ধ করার কথা বলছেন তখন  কৃষ্ণ বলছেন, তুমি অথবা রাক্ষস ঘটোৎকচ ভিন্ন আর কেউ কর্ণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারবে না। এখন তাঁর সঙ্গে তোমার যুদ্ধ করা আমি উচিত মনে করি না, কারণ তাঁর কাছে ইন্দ্রদত্ত শক্তি অস্ত্র আছে, তোমাকে মারবার জন্য কর্ণ এই ভয়ংকর অস্ত্র সর্বদা সঙ্গে রাখেন। অতএব ঘটোৎকচই তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করুক।

পরের গল্পে ঘটোৎকচ অসহনীয় বীরত্ব দেখিয়ে যুদ্ধ করেছেন।  দুর্যোধনের হয়ে যুদ্ধ করতে আসা রাক্ষস অলায়ুধের মাথা কেটেছেন। অসংখ্য কৌরব সৈন্য বধ করেছেন। কর্ণের রথের চারটি ঘোড়াকে একটি অস্ত্রে মেরে ফেলেছেন। কর্ণ বাধ্য হয়েছেন অর্জুন বধের জন্য বহুকাল যত্নে রক্ষিত ইন্দ্রের দেওয়া  অমোঘ একাঘ্নী অস্ত্র ঘটোৎকচের দিকে নিক্ষেপ করতে।  মৃত্যুর আগেও নিজের শরীরকে বিশালাকৃতি করে মাটিতে পড়া শবের নিচে আরও বহু শত্রু সৈন্যকে চাপা দিয়ে যুদ্ধ শেষ করেছেন তিনি। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে গেছেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনকে। তাঁর প্রয়াণে পাণ্ডবরা শোকার্ত হয়েছেন। অথচ কৃষ্ণ হৃষ্ট হয়ে সিংহনাদ করেছেন। রথের ওপর নেচেছেন, তাল ঠুকে ঠুকে গর্জন করেছেন। এতে অর্জুন অপ্রীত হলে জবাবে বলেছেন, এই রাক্ষস ব্রাহ্মণদ্বেষী, যজ্ঞদ্বেষী ধর্মনাশক পাপাত্মা, সেজন্যই কৌশলে তাকে নিপাতিত করিয়েছি, ইন্দ্রের শক্তিও ব্যয়িত করিয়েছি। আমিই কর্ণকে বিমোহিত করেছিলাম, তাই তিনি তোমার জন্য রক্ষিত শক্তি ঘটোৎকচের উপর নিক্ষেপ করেছেন। 

বাস্তবে পঞ্চপাণ্ডব ছাড়া ঘটোৎকচের মৃত্যুতে কাঊকে শোকার্ত হতে দেখা যায়নি। অভিমন্যুর মৃত্যুর পর অর্জুন জয়দ্রথ বধের কঠিন শপথ নিয়েছিলেন,  তার অনেক পরে  দ্রৌপদীর পঞ্চ পুত্রের মৃত্যুর জন্য অশ্বত্থামাকে শাস্তি দিতে  কৃষ্ণ সহ পাণ্ডবরা মহর্ষি ব্যাসের আশ্রম অবধি ছুটে গেছেন। কিন্তু ঘটোৎকচের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এগিয়ে আসতে কাউকে দেখা যায়নি। বরং যুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে মৃত্যুর পরেও কৃষ্ণ তাঁর নামে ব্রাহ্মণদ্বেষী, যজ্ঞদ্বেষী ধর্মনাশক বলে কালিমা লেপন করেছেন।  অনার্য ঘটোৎকচ তাই কেবলই ব্যবহৃত হয়েছেন, ব্যবহারের পরে অনাদৃত আর উপেক্ষিতই থেকে গেছেন ব্যাসের মহাকাব্যে।

চলবে...

সম্পাদকীয় কলম

উৎসব মানেই কবিতা। জীবন আর কবিতা মন্থনের বাইরে কবির ভালোবাসার উৎসব নেই। 

দেবীপক্ষের সূচনা তে অশ্রুজল মিলিয়ে যাক।

শুভেচ্ছা সহ..

দিপ্সি দে

সম্পাদক, মিছিলের মুখ সাহিত্য পত্রিকা

হেমন্ত

বিপুলকান্তি চক্রবর্তী 

কত দূর থেকে চেনা যায় উলঙ্গ আকাশটা

হেমন্তর সকৌতুকতা নিয়ে ঘূর্ণায়মান কলঙ্কময় জীবন 

তেমনি শূন্য বধির,

মার কোলে জন্মে বিভ্রান্তি ঘুচলো সুড়ঙ্গ সোহাগ প্রেমের

আমার বার্ধক্য নেমে আসে সর্বস্ব খোয়াতে

আলিঙ্গনে বিষ,এইসব দুর্বোধ্য প্রতিশ্রুতি শুকনো পাতা 

হয়ে খসে পড়ে হেমন্তর বাতাসে।

গোপণ পথে দ্বিরালাপ,কলুষ অঙ্গে জ্যোস্নার বর্ষণ

বিম্বিত প্রতারণা 

স্বচ্ছলতা কোথাও?খোয়ানোর ইচ্ছে এমন প্রবল 

সবুজ নিশ্বাসে হেমন্ত যেনো বীর্যের ঘ্রাণ নিয়ে মেতে ওঠে

অহর্নিশি ।

কিংবা চোরাপথে সৌভাগ্যবশত রজঃস্রাব দেখে কৌতুকে 

লিখিত নিষ্পেষণ গড়ে ফেলে।

বিবসনা হতে দেখবো না এমন হেমন্ত,খেয়ালে কানপেতে

শুনবো না তার কোল জুড়ানো শিশুটির কান্না

যেখানে হেমন্ত ভেঙে নিয়ে আসে স্থবির নিশ্বাস,বিষন্নবেলা।

খেয়ালি-পাখা

অপাংশু দেবনাথ 

দেখা হলেইবা কি না হলেইবা যায় আসে কিছূ?

মন তো মনের কাছেই কম কি এটাইবা?

সকল দিকে সব পথেই আছে আঁকা ছবি

কেউ জানুক বা নাই জানুক তাতে কাহার কি!

দেখা হোকবা নাইবা হোক মন জানে সব তাতেই মন্দ কি!

আলো থাকুক নাইবা থাকুক চোখেই আলো রাখা

ওড়া যাকবা নাইবা যাক হৃদয়ের তো আছে মুক্ত পাখা।

ইস্তাহার

অমলকান্তি চন্দ

ধূর্ত শিয়াল আকাশের দিকে মুখ তুলে

তার চোখে মুখে লালসার ডাবজল

রাতের দন্তক নিরিবিলি উদর ছিঁড়ে

শ্বাসী রগ, বেপরোয়া বাতাসে ভাসতে থাকে 

উদগার গন্ধ।

বেমালুম সঙ্কট

বোবা ইস্তাহারের ভেতর অবিকল কান্না

বিস্তৃত বাহু কেবল

অন্তরালে  সুযোগ খুঁজে

হামাগুড়ি দেয় সরল সরীসৃপের মতো।


ইতস্ততঃ সময় অবিকল হিংস্র ফেউ ।

জাগঘুম

চন্দন পাল

শরৎ তুমি, শরৎ নও! বলছে প্রিয় মাকুর দল।

আমরা যারা পাতা কুড়াই, কিইবা জানি আসল নকল।


সাদা মেঘের ফাঁকে দেখি, ছিটা ফুটা কালোর ছটা।

তাই বলে! কালরই শাসন, মানবো আমরা, এমনি বোকা।


চাঁদের গায়ে, দাগ লেগেছে, তাই বলেকি, চাঁদ কালো!

মরুর পথ পেড়িয়ে শেষে, জোছনা স্নান, ভুলে যাবো!


শরৎ তুমি, জাগিয়ে তোলো, জাগঘুমে আজ, ঘুমিয়ে যারা।

নয়তো একদিন, 'দশচক্র ভূত', শরৎ তুমি, হবে হারা।


আট আট

ভাবনা

বিপ্লব উরাং

মানুষ লিয়ে লিখতে বলেছিস-ফুলমতিয়া।

কঠিন রে ভাই কঠিন

মানুষ এই জীবটাকে চিনন খুবই কঠিন।


ওপরে দেখে তুই কিছুই নাই বুঝবি।

মিঠা মিঠা কথা বলবেক।

ভিতরে যে ওয়ার কী আছে-

ক‍্যামনে বুঝবি তুই?


হঃঁ-তবে চিনতে গেলে ভিতরে ঢুকতে লাগে।

দু-জনার মাঝে যদি ভিতরটা জানার গভীর ইচ্ছা থাকে-

তবে চিনতে পারবি।


আর ঐটার লাগি দরকার-

গভীর অনুভূতি -গভীর ভালবাসা।


মানুষ এই জীবটাকে চিনন খুবই কঠিন।

পরতিক্ষন ভিতরে ভিতরে চলে লড়াই।


মনে হয় সত‍্যিই কি ও হামাকে ভালবাসে?

একেই কথা ভাবে ঐ মানুষটা,

যাকে তুই ভাল বাসিস।


জীবনে চলার রাস্তায় তর চিন্তা-চেতনার সঙ্গে ওয়ার চিন্তা-চেতনার মিল থাকে-তবে দু-জনায় দু-জনকে ভালভাবে চিনতে পারবি।


একতিল এদিক-ঐদিক হলেই

ফসকে যাবেক সঠিক মানুষ চেনা।

ঐ-জনেই বলি গভীর অনুভূতি আর ভালবাসায় ই সঠিক

মানুষ চিনন যায়।

মান্তরাল সময়রেখা

চয়ন সাহা

মাঝরাতে দেয়াল রগড়ে নেমে আসে অন্ধকার,

চোখের সমান্তরালে পেরিয়ে যাচ্ছে সহস্র আলোকবর্ষ পথ!

শেষে নিঙড়ে নিলো একটা সাদা পেঁজা মেঘের বুক,

আর গলতে গলতে একদিন হাত ধরাধরি করে নিলো মাটির সাথে!

.

প্রতিদিন নিয়ম করে অবসাদগ্রস্ত হয় শরীর,

সমস্ত শক্তি দিয়েও চোখের পাতা বেঁধে রাখা যায় না,

আঁধার মেখে চেতনা মূর্ছাগত হতেই,

নিজেকে প্রত্যক্ষ করি সমান্তরাল এক পৃথিবীর অন্য এক সময়রেখায়।

.

সব কিছু দৃশ্যমান, 

ছুঁতে চেয়ে যখন অনুরনন তুলি,

অনুভব হয় যেন মহাশূন্য থেকে অভিকর্ষের কোলে তলিয়ে যাচ্ছি,

শুধু মাটি স্পর্শ করতে পারি না!

.

গোঁড়ালী ফেটে বেড়িয়ে আসে লোহিত কনিকার দল,

একে দিল লাল কালো মানচিত্র,

আর মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে ফরমান জারি করে গেলো,

শুকিয়ে যাওয়া একটা নিউক্লিয়াস।

.

ক্রোমোজোম বিভাজিত হতে হতে পেরিয়েছে সীমানা,

কই কেউ তো প্রশ্ন করেনি!

মহাশূন্যের মতো প্রসারিত হতে হতে 

অভিকর্ষ ছিড়ে গড়ে উঠা কৃষ্ণ গহ্বর, 

তার বুকের গভীরতা আমি ছুঁতে পারি নি!

আত্মক্ষরণের পুংক্তিমালা

সঞ্জীব দে 

সমস্ত ব্যাথা হাঁটুতে নেমে গেলেও 

মাথায় দুশ্চিন্তার ভিরে বুক ভাড়ি হয়ে ওঠে! 

আঠারোমুড়ার উত্তরে শেষ প্রান্তে ---

শ্রেণি কক্ষে থাকা আমি তখন শিক্ষক নই! 

আসলে একটা দক্ষিণমুখী কচ্ছপ! 

তোমার সব ব্যাথা হাঁটুতে জমে যত  ফুলে ওঠে! 

আমি ততই কচ্ছপ হয়ে উঠি। 

এইভাবে শ্রেণিকক্ষে আমি আর আমার  দূরত্ব 

ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকে। 

বিচ্ছিন্ন হতে থাকে আমি, আমার থেকে 

যাবতীয় সংযোগ। 

অহেতুক নির্বাসনে যোগাযোগ ঘটলেও 

কর্কটক্রান্তীয়  সংযোগ ভীষণ কঠোর!

সপ্ত সিন্ধু

শ্যাম মালাকার 

তুমি আমার 

শীতের সকালে 

ঘাসের শরীরে 

জড়িয়ে থাকা জল বিন্দু।

তুমি আমার 

সাত সমুদ্রের 

মায়াবী মণি - 

কখনো বা সপ্ত সিন্ধু ।

ডুবি তোমার মায়াবী ঐ 

চোখের কাজল কালো 

নেশার সাগরে ।

নিবীড় আদরে ।

পাইনা খুঁজে সমতল ।

তুমি দিন রাত্রি মোর

একাকার করেছো ।

ঘুম লাগা চোখ আদরে ভরেছো ।

প্রিয় এখন তুমি  সব খানে , 

কতটা নিরুপাই আমি ।

শুধু এই বিধাতাই জানে 

কত ঘুম ঘুম চোখে নিঃসঙ্গ বুকে 

খুঁজেছি সন্ধ্যা সকালে । 

কত আদর জমেছে ,

ঐ আকাশের  তারারাও 

নেমেছে - 

নিয়ে  প্রভাতের আলো ।

কত না চেয়েছি ,

কত না ডেকেছি 

পাই নি তোমার দেখা ।

আজ তুমি অন্যের আমানত ।

কিন্ত  প্রতিটা রাত -

জেগেছিলাম আমি ,

জেগেছিলে তুমি ।

করতাম কতইনা বার্তালাপ। 

কিন্ত প্রিয় আমি এখনো

রাত জাগি ।

এখনো তোমার নিয়ে দেখি স্বপ্ন। 

জানি তা বাস্তব নয় ।

কিন্ত কল্পনাতে আজও বলি - 

তুমি আমার 

শীতের সকালে 

ঘাসের শরীরে  

জড়িয়ে থাকা জল বিন্দু।

তুমি আমার 

সাত সমুদ্রের 

মায়াবী মণি - 

কখনো বা- 

সপ্ত সিন্ধু ।

বিবাগী

বদরুদ্দোজা শেখু

কৈশোরের কোনো এক অলস ফাগুনে 

শরীরে  শরীর চেয়ে লাগলো আগুন

শূণ্যতার মধ্যে এক স্বপ্নের প্রহর 

শিহরণ দিয়ে গেল অলোক-প্রভায়,

পুতুল খেলার সাথী কল্পনার পরী

আয় তুই বুকে  আয় , যাই এক স্রোতে 

মোহনায়  ভেসে , একদিন আস্থার আঙুল

জড়ালো আঙুলে এসে তুমুল প্রশ্রয়ে,

ভয়ে আর প্রত্যয়ে টানলাম বুকে 

ঝুঁকে এলো স্বর্গীয় গোলাপ  থরোথরো

কাঁপা তনু আনত নয়ানে, অসাবধানের ভুলে

পালালো সে অভিমানে অবিনয়ী ভেবে,

সেই থেকে খুঁজে ফিরি তাকে বিবাগী নীরবে;

কবে ফাগুনের দিনগুলো চুকে গেছে , ভীরু বুকে  মানিনীর

আগমনী ধ্বনি ওঠে, পেঁজা মেঘে কাশফুলে

মন্ডপে মন্ডপে খুঁজি তাকে বুঝি ভুল বিবাগী বিরহে।।

প্রেম আজ লজ্জিত

পুপাই দাস

পরস্পরকে পরস্পরের ভালোলাগা,

তারপর একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা--

এভাবেই আসে প্রেম।


একটা ছেলেকে একটা মেয়ের ভালো লাগলো,

মেয়েটা দেখল ছেলেটি স্মার্ট কিনা!

ছেলেটির স্টাইল আছে কিনা!ব্যাস,

তখন তার আর কিছু ভাবার প্রায়োজন হয় না;

সে তখন ভালোবাসতে শুরু করে,

ছেলেটিও মেয়েটির গুন বিচার করে না।


এভাবে তারা একে অন্যের প্রতি আস্থাশিল হলো,

নিজেদের ইচ্ছে মতো আড্ডা,ঘোরাঘুরি,

একই সাথে থাকতে শুরু করা,এমনকি

যে যাকে যেমন পারে ব্যাবহার করতে শুরু করে।

তখন তাদের মনে হয়---

সত্যিই আমরা প্রেম করছি,

কেউ আমাদের দুজন-কে আলাদা করতে পারবে না।


প্রকৃতি বলে এটা প্রকৃত প্রেম নয়।

প্রেম এমন এক অনুভূতি, যা 

সবাইকে নম্র করে দেয়,ভদ্র স্বাভাবি করে।

কিন্তু এ সমাজ তা বোঝে না,

সমাজ এখন প্রেম মানে বোঝে--

শারীরিক ব্যাবহার................


তাই প্রকৃত সত্ত্বা মানবজাতিকে একটাই প্রশ্ন করতে চায়--

তবে,এটাই কী প্রেমের যথার্থতা???

ভাঙাগড়া

গৌতম হাজরা

ভাঙতে ভাঙতেই সাজিয়ে নিচ্ছি অক্ষর

ভাঙতে ভাঙতেই গড়ে তুলছি শব্দ

দেখি, সেইসব অক্ষরের শব্দ জুড়ে জুড়ে

তৈরি করছি ভিত, চেতনার মধ্যে গড়ে তুলছি

             প্রতিবাদী দেওয়াল। 


কখনও কখনও ভাঙাগড়ার মধ্যে খুঁজে পাই

                  অদ্ভুত উল্লাস

যে উল্লাসের মধ্যে কেঁপে ওঠে সৃষ্টির আদিকাল

ঠিক যেন ভাঙাগড়ার এক অ্যালিয়াস বিনির্মাণ

যা উঠে আসে বলিষ্ঠ হাতের

               এক দৃপ্ত উদ্ভাস। 


আসলে ভাঙতে ভাঙতেই গড়ে তুলি দীপ্ত উচ্চারণ

টান টান শব্দের আর এক অন্য প্রতিভাস  ! 

আমি কবিতাকে ভালবাসি 

অমরেশ কর

কবিতা আমার ভালবাসার প্রতীক, 

একশো গোলাপের সুবাস 

আদর করে তুলে রাখা কোন এক 

জ্যোৎস্না রাতের মায়াবী মুখ। 

আলেয়ার পিছে বৃথা ছুটে গেছি, 

জয়মাল্য পড়ার বিদেশী লোভ 

আমাকে কবি হয়ে উঠতে দেয়নি কখনও ।

এখন জ্বলন্ত দুপুরে তালপাতার হাওয়ায়

আমার কবিতার শব্দেরা ঘুমিয়ে পড়ে। 

আস্তাকুড় থেকে খাবারের গন্ধ নিয়ে 

ছন্দের যাদুঘর বানায়। 

অমাবস্যার বন্য আঁধারে শুনতে পাই 

কাব্যরত্নের কাতর কণ্ঠস্বর। 

আমি যেন এক ফেরিওয়ালা... 

বসন্তের ভোরে কবিতা কাঁধে ফেরি করি 

একমুঠো সোনালী শুভেচ্ছার আশায়। 

নিদারুণ কষ্টে সন্ধ্যা হয় 

নদীর ঘাটে নোঙর ফেলে 

ইচ্ছেরা আবার লিখতে শুরু করে ,

কোন প্রত্যাশার লোভে নয় 

আমিও কবিতাকে ভালবাসি 

শুধু এটা জানানোর জন্য ।।

পতাকার উৎসব

বিজয় দাস

ধুয়ে মুছে যায় সোনা রোদ্দুর।

গতরাত থেমে আছে কপালে। 

কার মন্দির গেছে ঘুরতে। 

কোন আজান দেওয়ার সকালে। 


ঘরে চাল নেই। নেই ভিক্ষা। 

তবু পতাকার আজ উৎসব। 

সুরে গান নেই। নেই শিক্ষা। 

রঙ মাখামাখি নিয়ে কলরব। 


কোন দাদাদের সাথে আতাঁতে

দর কষাকষি চলে রক্তের। 

তুমি মিছিল ডেকেছো পাতাতে

ভাঙা শব্দের পরিবর্তে। 


পথসভা ভেঙে দিও শাসনের। 

তবু ব্রিগেড ভরবে কলমেই। 

ভাঙা পাঁজর সাজিয়ে আসনে

আমি ফিরবো মানব ধর্মেই। 


দেশ বেঁচে দাও জানি রোজ দিন। 

বোম-বারুদের কথা কিনতে। 

প্রিয় দুপুরের থালা ভাত হীন। 

গেছে অধিকার খুঁজে আনতে।। 


আমি বার বার করি চিৎকার। 

দেশ খামোখা নেচেছে গানে। 

আছে ব্যারিকেড এই দেশটার

নেই ভারত- পাকিস্তানের।। 

প্রতিটি শব্দেই অক্ষর আছে...

সঞ্জয় সামুই

পৃথিবীটা যেন অস্পৃশ্য শব্দের ওপর দাঁড়িয়ে

নেশার ঘোরে দুলছে সভ্য সমাজের গনতন্ত্র

ভেজা রক্তে নখের আঁচড়ে ক্ষতর প্রলেপ দেয় বক-ধার্মিক

প্রতিটি ক্ষতের ওপর অক্ষর ছিল বিমূর্ত পান্ডুলিপি

অমলকান্তি আর রোদ্দুর হতে আসেনি !!


ধর্ম আর রাজনীতির সহবস্থানে সীমান্ত রেখা

সভ্য সমাজের গতিপথ প্যাল্টাতে ব্যস্ত স্যাটেলাইটের সমীকরণ,

একটু লবনের জন্য ----

সেলাই দিদিমনি সুখ বিসর্জন দেয় আগামীর হিমোগ্লোবিনের কাছে....


যে উন্নয়ন হয়েছে বলে এত চিৎকার.....

নর্দমার ঢাকনা ঢেকে শিল্পের চারুকলার চাকচিক্য

সেই চারুকলা একুশের তাজা রক্তে রাঙা....!!


যারা সৃষ্টি ভুলে গড়ে তুলে শ্মশান আর কবরের

গ্রাফিক্স

যারা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় অভুক্ত সমাজের শুকনো চামড়া

ঘুমন্ত লন্ঠনের মতো নিস্প্রভ হয়ে যায় অমল, অবনীরা !!


সৃষ্টির আলপথে গনতন্ত্রের হাস্য মুখে 

রোজ রোজ প্রতিরোধ গড়ে তোলে ----

সেলাই দিদিমনিরা মৃত্যুর ক্যানভাসে....!

আর আমি......সেই সব অক্ষর গুলো নিয়ে শব্দ যাপন করি ........!!!

আগমনী প্রেম

সুদীপ্তা চৌধুরী

শরৎ আকাশে-

স্নিগ্ধ মেঘের ভেলা।

নদীর পাড় জুড়ে-

নরম কাশফুল।

ইচ্ছে করে;

পেতে তারই নরম ছোঁয়া।

বেজে উঠেছে-

আগমনীর সুর।

মা দুর্গা আসছে- 

বছর বাদে ধরিত্রীতে।

.......

মায়ের বোধন ষষ্ঠী লগ্নে।

সপ্তমীতে পূজার মণ্ডপে -

শাড়ি পড়া খোলা চুলে স্নিগ্ধ ললনা;

দিয়ে যায় আগমনী প্রেমের সুর মনের মাঝে। 

অষ্টমীতে তার চাহুনি, কথামালা- 

প্রেমের অনুভূতিকে;

বাড়িয়ে দেয়-

আরেকটু বেশি।

নবমীতে;

ভিড়ের মাঝে হঠাৎ-

তার হাতটি ধরে;

কাটিয়ে দেয়া কিছু মূহুর্ত।

দশমীতে মন খারাপ আর সিঁদুর খেলায় -

মায়ের হয় যে বিসর্জন।

তার আঁখির মাঝেও;

 আজ অশ্রু।

সে অশ্রু কি মায়ের বিসর্জনে নাকি;

আমাদের দুজনের আগমনী প্রেমের বিচ্ছেদে!

ভালো সাজা সাধ

চন্দন শীট

আমার শহর শুধু

চুপ থাকে জেগে জেগে

ভুল দেখে ফেরায় চোখ

যদি চরিত্রে দোষ লাগে! 


মন্দ দেখে বলি ভালো

যদি জোটে হাততালি

বাপকেও ভুলে যাই

দিতে থাকি গালাগালি। 


নেতারা আজ দেব যেন

ঠাঁই পায় সবার আগে

'গুণীমানী' এরা কারা? 

রাখো এদের আস্তাকুঁড়ে! 


মঙ্গলে যবে যাবে মানুষ

পরীক্ষা হচ্ছে ঘনঘন

তখনো তুমি কেমন মানুষ

ধর্মেই যে মানুষ চেনো! 


সব দেখেও আছো যে চুপ

গর্জে তুমি উঠবে না? 

তোমার ছলের জবাব দিতে

এসেছে আজ করোনা।

তোমার অমনিশা ঘোর

আমিনা তাবাসসুম 

সেসব অনাহুত আবদারে

ভেঙে চলে সাত্ত্বিক নিয়ম

চোখের চুম্বন পড়ে তোমার শরীরে।


আমি এই ঠোঁটে এঁকে নিই

                  প্রেমের সিজদা

তকদীর অন্য কিছুতে সুখ খোঁজে

আদরের পরতে পরতে এখন

অন্তহীন মহব্বত!

               

তবুও মাঝে মাঝে মেঘের পিয়ন এসে

লিখে রাখে বোবা রোদ্দুর।

দু হাতে জড়িয়ে রাখি

তোমার অমানিশা ঘোর।

জীবন বনাম ফ্ৰিফায়ার

রাহুল দেবনাথ

মোবাইল হস্তে ঠুস ঠাস বন্দুকের সেই শব্দ,

এ কি দেখি যুব সমাজ মোবাইলেতে জব্দ।

চিৎকার সে ৱিভাইব ৱিভাইব বাঁচতে তারা চায়,

বাস্তবে যে যাচ্ছে মরে বলে হায় হায়।


উড়ছে ওরা সামনে দেখছে প্ৰচুর‌ অ্যানিমি,

বুঝার ক্ষমতা হ্ৰাস ফলে, ফ্ৰিফায়ার তাৱ দামি।

খেলা ভালো গ্ৰাফিক্স প্লেয়ার,খেলতে ভিষন মজা,

বাস্তবে যে দিচ্ছ তুমি জীবনটাকে সাজা।


জাত খুঁজেছো প্লেয়ার প্ৰো স্তর খুঁজেছো তাতে,

খেলছো ভারি গেমটা তুমি, ঘুম আসে না রাতে।

হস্তে তোমাৱ মোবাইল, আর চক্ষু পানে দাগ,

বাড়ির লোক কিছু বললেই উঠে যাচ্ছে ৱাগ।


বলছি যখন চাইছো যুদ্ধ, নেমে পরো না মাঠে,

চিকেন ডিনাৱটা না হয় পাবে, সত্যি সত্যি পেটে।

খেলো কেবল জীবন যুদ্ধ, এ সব কিছু ছেড়ে,

মুক্তির আলো মিলবে শেষে ক্লান্ত আঁধার পেড়ে।

আত্মহত্যা বিরোধী

সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী

ভালোবাসো কাউকে? ঘা খেয়েছো? ভয় পেয়েছো?

তবে আত্মহত্যা কেন?

আত্মহত্যা কি ভালোবাসার চেয়েও সহজ মনে হয়? আত্মহত্যা করলেই কি তুমি মুক্তি পাবে? 

নাকি নিজেকে মুক্ত করতে পারবে? 

আর কখনও ভালোবাসার কাছে ফিরে যাবে না?


আত্মহত্যা মানে কী? একটা হাস্যকর প্রয়াস...

নিজের থেকে পালাবার হাস্যকর প্রয়াস!

আত্মহত্যা বিষয়ক খবরগুলো কখনও পড়েছো? বছরটায় কোভিডে যত মানুষ মারা গেছে,

তত বা তারচেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে আত্মহত্যা করে। 

হায়রে অদৃষ্ট, কী নির্মম পরিসংখ্যান!


আজকাল আত্মহত্যা যেন মহামারি হয়েছে,

তবে অতিমারি যেন না হয়।

মানুষ আজ খুব সহজেই আত্মহত্যার পথ বাছছে,

পরাজয় আর দুঃখ শেষ করার জন্য।

ব্যর্থতাকে আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে মেনে নিলে

মন শক্তিশালী নিশ্চয়ই হবে,

স্বপ্নপূরণ না হওয়ার আঘাতে জর্জরিত হয়ে

আত্মহত্যার মতো কাপুরুষোচিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।

লন্ড ভন্ড

কাজী নিনারা বেগম

ভব ঘুরে মন পালিয়ে বেড়ায় স্মৃতির টুকরো টুকরো পাতা ইচ্ছে আচরণে পুড়ে পুড়েছাই। 

দিন চলে যায় ঘনিয়ে আসে বলতে পারিনি কখনো এক শতাব্দীর অভিমানী চোখের জলে ডুবে থাকা আবেগের কথা।

তন্দ্রা এক  অতন্দ্র প্রহরী।, পৃথিবীর অন্ধকার বোবা নিস্তেজ গোঙানি মেখেছি গায়ে। 

তোমার প্রতিক্ষাতে কষ্টের ঝর মনের অলিতে গলিতে লন্ড ভন্ড প্রতিচ্ছবি খানি।

বিকাশ মন্ডল

১. মস্তিষ্কের শব্দজোট

চিবিয়ে খাওয়া তোমার মগজে

আর লুকিয়ে ফেলা এক কাগজে

থামছে না জ্বর বুকের ভিতর 

আঁধার কালো রাত্রির, এক নিমিষে

পুড়িয়ে ফেলো..

জল রঙে দেখো মিশছে কালো

আমিও তোমার মৃত্যুপথযাত্রী!

তবুও আকাশ ভাঙত যদি

খুঁজে নিতাম পাহাড়ি নদী,

আর অল্প টানেই ছুঁইয়ে দিতাম 

তোমার চোখের মণি...

তুমিও রোজ অভ্যাসে আর 

টাটকা তাজা অনভ্যাসের 

প্রফেশনাল খুনি।

ডিপ্রেশন গেঁথে বড়শি ছিপে

দুস্টুমি তোমার চুলের ক্লিপে..

জড়বস্তু হয়ে আমি লেগে থাকি।

২. মিছিল

ঊনিশ বছরের ছেলেটা 

সেদিন প্রথমবার মিছিলে হেঁটেছিল। 

অনেক কিছু দাবি ছিল কিন্তু 

মিছিল লক্ষে পৌঁছানোর আগেই 

পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডা থেকে শুরু করে

হাতাহাতি কিছুই বাকি রইলো না। 

এরই মধ্যে শোনা গেল 'ফায়ার', 

এক একটা গুলি তীরের গতিতে ছুটে এসে

বিঁধছে আন্দোলনকারীদের শরীরে। 

তাজা রক্তের লালে লুটিয়ে পড়ছে মানুষগুলো। যুবকের বুকেও এসে বিঁধল 

গরম লোহার একটা বুলেট। 

বোমাবাজির আঘাতে কারো হাত, কারো মাথা,

কারো বা অস্তিত্বটাই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। 

মিছিল ক্রমেই মৃত্যুর 

ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের রূপ নিল।

বাস্তব  জীবন

পাপিয়া দাস

জীবন বড় বিচিত্র-

কখনও  হাসিঠাট্টা

আবার  কখনও  দুখের নির্মম চিত্র।


গাছের  সবুজ পাতা ঝরে

সুখের  দিন পেরিয়ে 

আর   গজিয়ে  উঠে  সবুজ পাতা  

দুখের  দিন  ঘুচিয়ে।


টাকা  পয়সা আছে যতদিন

আদর সবার  কাছে।

প্রীতি -ভালোবাসা ও

হারিয়ে  ফেলে প্রিয়জনের  কাছে।


হাসি আনন্দে আর  উল্লাসে

তুমি  বন্ধু।

বিপদে দূরে  থাকো।

তাই বলবো আমি

কষ্ট  আর আনন্দ  নিয়ে 

জীবনে বাচতে তুমি শেখো।

কালের  স্রোত

শাশ্বতী  দেব

কালের  স্রোতে  বয়ে  চলে কিছু  অজানা গল্পের  অনুভূতি,

মানসপটে  শুধুই  দেখা  দেয়  অকল্পনীয়  চিত্র ।

বেপরোয়া  হয়ে  যাচ্ছে  জীবনের  সমস্ত হিসেব ,

মোহনায়  গিয়ে  গা  এলিয়ে কেদারায়  বসলেই  দেখা  দেয়  চোখের  সামনে  সব পাওয়া  না  পাওয়ার  প্রতিচ্ছবি ।

আলোড়ন  চলে  অনুক্ষন মনে  মনেই  সমস্যার  জটিলতা  নিয়ে,

কালচক্রের  নিশানায় এক  না  একসময়  সবাইকেই  পা  রাখতে  হয় ।

কৃত্রিমতা  

রত্না  মজুমদার

এতটা  আগ্রহে ও কালের  ভারে  অস্বীকার,  

ইচ্ছেকৃত ভেঙ্গে  দেওয়া  পুরনো  সাঁকো  ।

স্মৃতিভ্রষ্টের কৃত্রিমতায়   যেন  ভীত  প্রেমের  আড়ষ্টতা ,  

মনে  করিয়ে  দিলেম  ছোটখাটো  উষ্ণ  কামনার ।

দুই একটি  কথকতা ,

নিরুওর  ;

তারপরও  তোমার  রূপসী  মুখের  আদলে তার  কৌতুক,

কোথায়  গিয়েছিলে  এত  সেজেগুজে  ।

নিঃসঙ্কোচে  বলে দিলে  কবিতা পাঠের  প্রাসাদ,

পর স্ত্রীর  কবিতা  শুনে  মুখের  ভাঁজে  নীলগ্রহ ।

তবু  কেন  প্রাচীন  আক্ষেপ তোমাকে  কুঁড়ে  কুঁড়ে  খায়,

কপালজুড়ে একরওি  রূপ  নেই  

তাকে  নিয়েই  বকুল  কুঁড়ায়।

সন্ধ্যার  ব্যালকনিতে বসে বসে জুড়ায়  গা ,

কতকাল  পরে  তার  মুখদর্শন ;

মায়াবী  সন্ধ্যা নয় অস্বচ্ছ  আলোক  ছায়ায়  

প্রতিকূল আঁচলের  সীমা,

দমবন্ধ  হয়ে  আসছিল,  

নিষ্পলক  প্রাকৃতিক  বাতাস  দ্রুত বেড়িয়ে  এলে।

অভিনয়  প্রেম

ডাঃ  শ্যামোৎপল   বিশ্বাস

অস্তিত্বে  যদি  প্রেম  না  থাকে  

ভালোবাসি  বলাটা  -  চূড়ান্ত  অভিনয় ।

বিদ্রোহী-টু

মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ

আয়রে তোরা আয় হিন্দু ও মুসলমান।

কামারের হাত কড়া-হাত নিয়ে আয়।

একরক্তে গড়া মোরা,একই দেশের বাসিন্দা।

সবাই মিলে করবো মোরা,

 এই বাংলার গনতন্ত্রের রক্ষা


এই দেশেতে জন্ম আমাদের, এই মাটিতে ঘর

এই মাটির দাম হলো সোনার দামে দাম।

এই দেশেতে থাকবো মোরা রাম-রহিম মিলে।

মোদের দেখে শিক্ষা নেবে,ভিন্নদেশের লোকে।

তুলবোনা কথা জাতিভেদের,মিলবো কাঁধে কাঁধে।

এদেশের একমুঠো মাটি নিলে,ছেড়েদেবো না তাকে।


নিয়াই বের করে ওই মুখোশধারীদের

দে বের করে এদেশ থেকে

সুন্দর দেশের ধংসার্থের মানুষরুপী শয়তান গুলোকে।


বাংলার মাটি তোমার কাছে কাঁদি, দেখে রেখো 

এই বাংলার মানুষকে তুমি!

কারণ আমি আজ আছি তো কাল নেই!

কিন্তু পৃথিবীর নিশ্বাস যত দিন 

বাংলার মাটি তুমি থাকবে ততোদিন

দেখে রেখো দেখে রেখো এই বাংলার মানুষকে তুমি।


আয়রে তোরা আয় হিন্দু ও মুসলমান 

কামারের হাত-কড়া হাত নিয়ে আয়।

সংসার

রঙ্গন রায় 

আসলে প্রতিটি দিন একেকটা বাবা। ঘাম ঝরায় , কর্মঠ - উদ্দাম। 

দুপুর অনেকটা মায়ের সাথে যায়। ভাত বেড়ে দিয়ে আর একটু 

ভাত দিতে চাওয়া। বিকেল গুলোকে আমি পাখিদের দিয়ে দিই 

খেলা শেষে  বাসায় ফিরে আসা। বন্ধুদের সাথে সন্ধ্যা  এবং টুকু ,  

আড্ডা সিগারেট  চায়ের কাপ। কিন্তু প্রতিটি রাত আমি -  

একা আমার সাথেই শুধু এর উপমা দেওয়া যায়। এরপর অন্ধকারে

সকাল হয়ে গেছে ভাবা পাখি ডাক দিলে  , ভোর , আর এখানেই 

বেঁচে থাকার মূল গন্ধ  , পবিত্র আলোর মত ফুটে ওঠে

সপ্ত সিন্ধু

শ্যাম মালাকার 

তুমি আমার 

শীতের সকালে 

ঘাসের শরীরে 

জড়িয়ে থাকা জল বিন্দু।

তুমি আমার 

সাত সমুদ্রের 

মায়াবী মণি - 

কখনো বা সপ্ত সিন্ধু ।

ডুবি তোমার মায়াবী ঐ 

চোখের কাজল কালো 

নেশার সাগরে ।

নিবীড় আদরে ।

পাইনা খুঁজে সমতল ।

তুমি দিন রাত্রি মোর

একাকার করেছো ।

ঘুম লাগা চোখ আদরে ভরেছো ।

প্রিয় এখন তুমি  সব খানে , 

কতটা নিরুপাই আমি ।

শুধু এই বিধাতাই জানে 

কত ঘুম ঘুম চোখে নিঃসঙ্গ বুকে 

খুঁজেছি সন্ধ্যা সকালে । 

কত আদর জমেছে ,

ঐ আকাশের  তারারাও 

নেমেছে - 

নিয়ে  প্রভাতের আলো ।

কত না চেয়েছি ,

কত না ডেকেছি 

পাই নি তোমার দেখা ।

আজ তুমি অন্যের আমানত ।

কিন্ত  প্রতিটা রাত -

জেগেছিলাম আমি ,

জেগেছিলে তুমি ।

করতাম কতইনা বার্তালাপ। 

কিন্ত প্রিয় আমি এখনো

রাত জাগি ।

এখনো তোমার নিয়ে দেখি স্বপ্ন। 

জানি তা বাস্তব নয় ।

কিন্ত কল্পনাতে আজও বলি - 

তুমি আমার 

শীতের সকালে 

ঘাসের শরীরে  

জড়িয়ে থাকা জল বিন্দু।

তুমি আমার 

সাত সমুদ্রের 

মায়াবী মণি - 

কখনো বা- 

সপ্ত সিন্ধু ।