কুশল ভৌমিক
আমার যে কবিতাটি এ বছর এসএসসি পাশ করলো
তাকে নিয়ে শহরে তুমুল হইচই
অনার্স মাস্টার্স করা কবিতাগুলো
এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিল--
এমন অল্প শিক্ষিত কবিতার ঠাঁই হবে না রাজপথে।
পি এইচ ডি ডিগ্রিধারী কতিপয় কবিতা
গজ ফিতা দিয়ে মাপতে লাগলো
প্রতিটি শব্দের দৈর্ঘ্য প্রস্থ আর উচ্চতা
সুশীল শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হলো
উচ্চ পদস্থ তদন্ত কমিটি
এবং যখন উন্মোচিত হলো-
এই কবিতাটির জন্মদাতা একজন নিরক্ষর কৃষক
মাতা-যমুনাবতী গৃহিনী
সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো ওরা
কৌলিন্য হারানো শিল্প অবমাননার দায়ে গঠিত হলো বিশেষ ট্রাইবুনাল
কোন প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে
ঘোষিত হলো এক তরফা রায় --
মৃত্যুদণ্ড অথবা পিএইচডি ডিগ্রিধারী সুশীল কবিতাদের চরণে কৃতদাস হিসাবে আত্মসমর্পণ।
শহরের ডাকসাইটে কবিতাগুলো দাঁত মুখ খিঁচিয়ে
তেড়ে আসলো আর শেকল পরাতে চাইলো আমার
অল্প শিক্ষিত কবিতাটির হাতে ও পায়।
তখন কী আশ্চর্য ওঙ্কার তুলে আমার কবিতাটি
ছড়িয়ে পড়লো শহরের অলিতে গলিতে
তুমুল বাজতে লাগলো
গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে।
যে কবিতা লেখা হয় রক্তের অক্ষরে
হৃৎপিণ্ডের গভীর প্রদেশে যার উচ্চারণ
যে কবিতার শরীরে লেগে থাকে প্রিয়তম পিতার ঘাম জননীর চুম্বনের দাগ
তাকে হত্যা করা অসম্ভব,
এ কথা জেনেও ওরা
আমার কবিতার দিকে তাক করে মারণাস্ত্র
আর অনাবশ্যক ঈর্ষার বুদবুদ্।
অথচ ওরা জানে না
মানুষের চিন্তাকে হত্যা করা যায় না
চিন্তাকে বাঁধবার মতো কোনো শেকল
পৃথিবীতে নেই।
No comments:
Post a Comment