চন্দন পালে'র গুচ্ছ কবিতা
এক
মলয়জশীতলম্
শরীরের মাঝজমিনে সটান রোমগুলির নিচে,
চামড়া স্তর ভেদ করে পিঞ্জরাবদ্ধ কন্দর,
ভেতরটা থেকে ধোঁয়া উঠছে না ! অথচ পুড়ছে !।
পুলোমা, ছত্তিশগর, সাংসদ উঠোন কিংবা নির্জন রাস্তার সুযোগে অসহায় ষোড়শী কিংবা পুরুষের চুপ চিৎকারের পর, যখন রাঙ্গামাটির ঘরে ঘরে সদ্য অনাথ গলা ফাটায় তখন নিংড়ানো কন্দরটা বেয়ে, থেকে থেকে অশ্রু ঝরে।
শুধূ আমার নয়, তোমারও।
কিন্তু যারা খবর বানালো তাদের ফিরতিটা নগন্য। বেছে বেছে বেয়োনেট গাঁথা এখনো বাকি।
বোমারুর ডায়লগে যারা হাততালি দেয়, আমি সেদলে নেই।
বিদ্যুতহীন, জলহীন, সাঁকোহীন, পিতৃহীন শহরের কষ্ট কি জানো,,,,!
কয়েকটি দোকান, পাঠশালা, হাসপাতাল গুড়িয়ে, হয়তোবা লক্ষ্যভ্রষ্টে, বীরত্ব প্রশ্নবোধক,,,।
যেদিন দু- তিনটি মহাতঙ্কী শিকার হবে সেদিন ভাংড়া নাচবো,,,,,,।
বল্লে - বল্লে,,,, !
দুই
পালনকর্তা সমীপেষুঃ
যখন-তখন, যেখানে সেখানে, অথবা আমাজনের পারে,
প্রাণ নিয়ে নেবে প্রাণীর !
বলি, লজ্জার মাথা খেয়েছো !
আগে প্রতিটি স্বচ্ছপ্রাণীর আজীবন
বেঁচে থাকার নূন্যতম পাঁচ হাজার,
প্রতিমাসে সুনিশ্চিত করো।
বিলাসিতা আর ঔষধ বাদ-ই দিলাম।
জল দিলে সাথে প্লাবন, আলোর
সাথে খরা, বায়ুর সাথে ভাইরাস,
লড়াই করতে করতে,
হাতে আর কত থাকে হিসাব করেছো কি !
অনাথ, অবলা, বেকার, জরা যখন,
অসহায় চোখে তাকায় তখন,
সে চোখের ভাষায়, অনুভব কর কী
তাঁদের চাল,চুলা আর বল্কল।
স্বপ্ন বাদ-ই দিলাম।
নির্বিচারে যমদূত পাঠাও,
পাশ-ফেল প্রথায় রপ্ত দূত কতটুকুইবা বুঝে!
স্বচ্ছ - অসচ্ছ, নিম্নবিত্ত, উচ্চঠগী আর ধর্ষক।
বাছবিচারে নেই কোন মাত্রা !
বাক্ চাতুরী বাড়ে। বাড়ে মুখের সাথে মুখোশ।
দিবালোকে সবাই দেখে, তুমি দেখনা !
অন্তর্দৃষ্টি বাদ-ই দিলাম।
তিন
বিশবিশের প্রশ্ন
স্যার,
তুমি বলেছিলে ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ।
বলেছিলে, বিদ্যা বিনয়ং দদাতি ।
আরও বলেছিলে, ছাত্রছাত্রী দেশের ভবিষ্যৎ ।
অনেক পরে বুঝেছি,,,,
তোমার চারণগুলি,
কখনো কখনো দেশে শুনা যায়,
প্রায়ই স্কুল গন্ডিতে আবদ্ধ ।
ক্ষমতাদর্পী, বাকচতুর, পরশ্রীকাতর,
গন্ডিতে রেখে আসে, বিদ্যা।
স্যার,
বলেছিলে ছেলেমেয়ে সমানাধিকার।
তাহলে,
বর চাকুরীয়ান হলে কনে বেকার মেলে,
কিন্তু, কনে চাকুরীয়ান হলে, বেকার বর কেন মেলে না !
কনে কেন রাঁধতে মাজতে লেপতে জানে,
ছেলেদের কেন শেখানো হয় না !
স্যার
বলেছিলে, মাতাপিতাই মহান শিক্ষক।
তাহলে,
মেধাবী সন্তান বিদেশ থেকে কেন ফিরে আসে না !
কেনই বা অনাথালয় আর বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠে !
গড়ে উঠলই যদি পাশাপাশি কেন হয় না !!
স্যার
বলেছিলে, বয়ঃসন্ধির হাতে মুঠোফোন বিষবৃক্ষ।
তুমিই জীবাণুভয়ে তাদের ফোনমুঠো করে দিলে!
সব সন্তান মনে হরিশ্চন্দ্র নেমে আসুক !
No comments:
Post a Comment