Slideshow


চলন্ত ট্রেন



🖍 সৈকত মজুমদার
(অণুগল্প)

সেদিন আগরতলা থেকে লোকাল ট্রেনে বিলোনিয়া আসার পথে একই কম্পার্টমেন্টে দেখা অনিমেষ নীলিমা’র। প্রথমে চিনতে পারেনি অনিমেষ , পরে আলাপ হয়। 

সেই কবে কলেজের প্রথম বর্ষের শুরুতে নীলিমা’র বিয়ে হয়ে যায়। যদিও বিয়েটা ওর অমতেই হয়েছিল, নীলিমার দ্বিগুণ বয়স ছিল বরের। একটাই গুণ, ছেলে মাস্টার। প্রথম প্রথম খুব কেঁদেছিল, তারপর মানিয়ে নেয়। 

এদিকে অনিমেষ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর লড়াই করে, গত এক দশক ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি দারিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করেছে। অবশেষে আজ পরিবার ও সমাজের চোখে একজন আদর্শ । কিন্তু ভিতরের ক্ষতটি এখনও শুকোয়নি, বরং আজ নীলিমার রক্তিম সিঁথি এরকম ধূসর দেখে মর্মাহত । 

-একি! তোমার এ অবস্থা ?
-সবই আমার কপাল ,
-কিন্তু ,কিভাবে !
-স্ট্রোক করে, হসপিটাল নিতে নিতে,,,
-উনার বয়েস কত হবে ?
-চুয়ান্ন/পঞ্চান্ন হবে
-তোমাদের ছেলে /মেয়ে ?
-নেই। 
-নেই !

নীলিমা চলন্ত ট্রেনের জানালায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়, সারা মুখমণ্ডল জুড়ে একটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনিমেষ আর কিছু জিগ্যেস করার আগেই 
-এখন ওর হেড অফিস থেকে আসছি, পেনশনের বিষয়ে কথা বলে। 

অনিমেষ সেখান থেকে ওঠে দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছে, আর সব কিছু পেছনে ফেলে ট্রেন ছুটছে । 

বেকার ছেলেটিও একদিন চাকরি করে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা !! 

       

No comments:

Post a Comment