Slideshow


Showing posts with label ঘুম শেষে. Show all posts
Showing posts with label ঘুম শেষে. Show all posts

প্রেয়সি

✍️কাজী নিনার বেগম

বলেছিলাম প্রেয়সি!---

তোমাকে সোনার খাট পেতে সিথান খাটে রাখবো,,

তোমার নরম কচি দুটি পা

দুগ্ধ হলুদ রত্ন জলে ধুয়ে দেব তোমায় সকল গাঁ ।।

"রাখতে পারিনাকো সেকথা"!!


বলেছিলাম প্রেয়সী !!--


কুড়েঁঘরে রাখবো নাকো 

প্রাসাদ নির্মাণ করে রাখবো,,

"আমি রাখতে পারিনি সেকথা"!

 

বলেছিলাম প্রেয়সি!-


হাতে দেব সোনার কাঁকন মতির কানের দুল ,,

হিরা পান্নার সাতনরি  হার খোঁপায় দেব নীলার ফূল।।

"রাখতে পারিনি সেকথা"!


আমার মগজে ধরেছে গুন‌ পোকা! ,,

আমার ত্বক লেগেছে কীট,,

ফুলের কলিতে বিষের পচন।।


পাতায় পাতায় আষ্টেপৃষ্ঠে রিপুর প্রবঞ্চনা ,,

"রাখতে পারিনি সেকথা"!

"আমি নষ্ট আমি প্রবঞ্চক!

জোকার

 ✍️শিবাশীষ মিত্র

জোকার উঠেছে সং সেজে ঐ

করতালি বাজে মঞ্চে ।

বিকোয় বিলোয় যা আছে খুশি

ঝোলাতে নিজ সঞ্চে ।।


জোকার জোকার উঠেছে পুকার

ধ্বনিত মঞ্চ জুরে ।

কাঁদতে পায়নি দু-দন্ড সে,,,,

হাসাবে কেমন করে??


অশ্রু সজল বুকে সে

হাসি আঁকে চোখে মুখে ।

হাসায়ে ধরা নিজে মনমরা

লুকায় কষ্ট বুকে ।।


কন্টক পথে ফুল ছিটায়ে

নরকে করে সে স্বর্গ ।

জগৎ হাসায়ে খুশিতে ভাসায়ে

নিজগুণে উৎসর্গ ।।

অাস্তাকুড়ে সভ্যতা -২

✍️অদিতি তুলি

ধর্মান্ধতা অার মৌলবাদের বেড়াজালে

মনুষত্য সেই কবেই গেছে নির্বাসনে

চলছে চলবে অনির্দিষ্টকাল

মানবতা ও অাজকাল অনশনে

মুখোশধারীরা নেমেছে রাজপথে

দাগকাটা সীমানার এপাশ ওপাশ

বিভাজনে যায় নদী সমুদ্র অাকাশ

সাম্যবাদীর অযথা শ্রমের অাভাস

উগ্রবাদী কট্টরপন্থীর হাতেহাত

এপাড়া ওপাড়া নিষিদ্ধ যাতায়াত

হিংসা বিদ্বেষের বিষবাষ্পে ঢাকা সবি

কবিরাও হয়ে যাচ্ছে হিন্দু কবি মুসলিম কবি

ভিটেহারা ব্রাত্য প্রান্তিকের মুখে তালা

অসহায় শব্দশ্রমিকের বুকের জ্বালা।।

চির নবীন

✍️আমিনুল ইসলাম

আমরা যুবক ছাত্রদল- শক্তির প্রতীক।

আগামী দিনের ভবিষ্যত কারিগর।

সারা দুনিয়ার গর্ব,

জয় করবো আমরা বিশ্ব।

উত্তরে হিমালয়,দক্ষিনে কন্যাকুমারী।

ধরণী মায়ের উত্তরাধিকারী।

সকল পাপ মোচন করবো আমরা,

গড়ে তুলবো স্বর্গের ভারতবর্ষ।

সেখানে থাকবে না বিভেদ,কোনো ক্ষোভ।

জন্ম নেবে স্বামীজীর কালামের মত লোক।

অবিচারে প্রতিবাদে আমরা যুবক শক্তি,,

রক্ত আমাদের ভারত মাতার বিজয় তিলক।

ছিটকে পড়া রক্ত

✍️প্রীতম শীল

রক্তের দাগ পড়ে আছে,

সাদা কাশ বনে।

যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে রক্ত ঝড়েছে,

পড়ে কি মনে?

মাটি দিয়ে ফাটা মূর্তির,

সারলে তুমি দাগ।

যে কলঙ্ক লেপেছ তুমি,

হয়ে ভীষণ রাগ।

সে মেয়েটার দোষ কি ছিলো,

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

তাইতো তুমি দিয়ে গেলে,

বেঁচে থাকার অভিমান। 

আর কতোকাল ঝড়বে রক্ত,

প্রতিমা গড়বে তুমি?

পাপিষ্ঠ হাতে দেবী মূর্তি,

মেনে নেবে কি ভূমি।

পুরুষ জাতির কলঙ্ক এঁকেছো,

নাড়ী মূর্তির কাছে।

এ জনমে পাপের বোঝা নিয়ে,

বেঁচে থাকাই মিছে।

শুধরে যাও পুরুষ জাতি,

দেবী মহামায়ার রুপ।

এক হাতে ফুল অন্য হাতে কাটা,

অন্যায় হবে খুব।

পুষ্পিত বনের প্রজাপতি

✍️রাম প্রসাদ কুমার কুন্ডু

স্বপ্ন যা ভূলে গেছি 

তা মনে আনার দরকার নেই

মন পুড়ে পুড়ে খাক হয়ে যাক 

তাতে কারো কিছু এসে যায় না। 


রাত যখন দিন হয় মনে পড়ে সব 

দিন শেষে রাত হয় হৃদয়ে পড়ে আকাল, 


পুষ্পিত বনের প্রজাপতি 

বাসা বাঁধে না কাশবনে 

তারা মধু পেতে পুষ্পে পুষ্পে 

বসন্তকে ডাকে ডানা ঝাপটে 


আমার বসন্ত কই 

তুমি কি দেখেছ কখনও

তুমি জানো স্বপ্নগুলোকে 

একে একে পুরেছি অন্তরে? 

 

অন্তরে একটা ফর্সা আকাশ আছে 

সেখানে তোমার অবস্হান ছিল 

এখন কেন নেই… 


কেন আকাশ থেকে সব মেঘ সরে গেল, 

সব কুয়াশা কেন সুর্যের মুখোমুখি হল 

তারা আজ অামার আকাশ থেকে নিঃশ্বেষ হয়ে গেল 

অাশ্চর্য তো!

ওরা ফুটপাতে আজ

✍️যোগমায়া গোস্বামী

দিবা নিশি ফুটপাতে খোলা আকাশতলে

ভগ্ন হৃদয়ে আছো কারপানেতে চেয়ে?

কারো কিছু কি আর এলো গেলো তাতে?

বিন্দুমাত্র আচঁড় কাটে না কারো বুকে।


ক্ষুধার্ত স্বজন আছে পথ চেয়ে ,

অভুক্ত শিশু দুগ্ধ পান তরে করিছে ক্রন্দন,

নিষ্টুর সমাজ বড়ো নির্লজ্জ হয়েছে আজ

অথচ তোমরা লড়েই চলেছো প্রাণেপণ।


সমাজগড়ার কারিগর তোমরা ভুলে গেছে ওরা

তাইতো তিরস্কারে  দিচ্ছে তার প্রতিদান। 

বজ্রের মতো উঠো গর্জে এবার  ,

পায় যদি এ আওয়াজ বিধাতার কান।

অতৃপ্ত অনুভূতি

✍️ সুজন দেবনাথ 

অপার মহিমা তোমার মাগো

তুমি ধরনীতে অবতীর্ণ। 

তোমার চাওয়াতেই করেছো মাগো

জীবন আমার পূর্ণ।। 

তব গর্ভে ঠাই দিয়েছো 

করেছো আমায় ধন্য। 

সুন্দরতম ভুবন দেখেছি

জননী তোমার জন্য।। 

তোমার কাছে করেছো মাগো 

শত জনমের ঋণী। 

এতো ঋণ যে শোধিতে মাগো

পারবোনা কোনো দিনই।। 

এই জনম যে বৃথাই মাগো

জীবন সূচনায় তুমি হারা। 

কিভাবে যে দিন কেটেছে মাগো

তুমি জানোনা, তোমায় ছাড়া।। 

পূজিতে তোমায় দাওনি সুযোগ

করতে পাইনি আজ্ঞা পালন।

আর জনমে মা হয়ে আমি

গর্ভে করবো তোমায় লালন।।

দশমাস দশদিনেতে তুমি

যখন পূর্ণ রূপি হবে। 

তোমার জন্মে সন্তান তব

ঋণের মুক্তি পাবে।।

শত প্রণামে তোমার চরনে

চাই একটু অনুমতি। 

পূর্ণ করো মাতৃ সন্তানের

এই অতৃপ্ত অনুভূতি।।

কি তার পরিচয়?

✍️সুধীর দাস

কি ছিল তার পরিচয়?

লক্ষ লক্ষ ভ্রুনের সঙ্গে করে লড়াই।

মাতৃ গর্ভকোশে পৌছেঁ একটি সুন্দর নবজাতক রূপে জন্ম।

নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক পবিত্র শিশু 

কলুষিত সমাজের চিন্তা ভাবনা থেকে অধুষিত।

কিন্তু সে কি জানতো তার প্রকৃত পরিচয়?

সে কি জানে তার গর্ভধারিনী কে? 

সে কি জানে তার জন্মদাতা  পিতা কে?

সৃষ্টির সৃষ্ট এ সংসারে তার স্থান শহরের বস্তিগলির বর্জ্য আবর্জনার ড্রেনের পচা জলের মাঝে।


সে জানেনা তার পরিচয়?

দিবারাতি ক্ষুধার তাড়নায় ছুটতে হয় দ্বারে দ্বারে।

লাথি , ঝাঁটার বারি খেয়েও তাকে ছুটতে হয় পথে প্রান্তরে।

প্রতিটি পদক্ষেপে যার জীবনের সাথে করতে হয় লড়াই।


শীর্ণ জীর্ণ দেহ রাস্তার কুকুর প্রকৃত মিত্র।

সে জানেনা মাতৃত্বের বন্ধন ,  সে জানেনা পিতার ভালোবাসা।

সে জানেনা বন্ধুত্ব কি? সে জানেনা রাখীবন্ধন কি? সে জানেনা ভাইফোটা কি?

তার চোখে শুধু ক্ষুধার আর্তি।


যখনই সে নিজে কোনো দোষ করে 

তখনই নিজেকে নিজে করে শাসন।

যখনই তার মায়ের কথা মনে পড়ে 

তখনই সে নিজেকে নিজে করে স্নেহ আদর ।

পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে ভাবে ঝলসানো রুটি।

তবুও তার একটাই পরিচয় সে অনাথ। 

মিছিল

✍️মোঃরুবেল

একটা মিছিল সুতীব্র হচ্ছে রাজপথে।

অগণিত তাজা প্রাণ,

দীপ্ত কণ্ঠে স্লোগান।

শিরায় শিরায় টগবগে রক্ত।

ফসল জন্মদাতাদের রক্তমাখা পা।

নয়নযুগলে কিছু অধিকার কুড়িয়ে নেওয়ার স্বপ্ন পুষা একুশের যুবক।

আর খর্ব হওয়া অধিকারের প্রতিচ্ছবি।

সবকালেই এই মিছিল গুলি সভ্যতার বুকে দাগ রেখে যায়।

সর্বদায় আমরা অধিকারের জন্য ভিক্ষুকের বেশে হাত পেতে থাকি তাদের নিকট,

যাদের আমরা সিংহাসনে বসায় আমাদের অধিকারের রক্ষাকর্তা হিসেবে -

একটি মতদানের পর অন্য একটি মতদানে।

কি অদ্ভুত তাই না?

আসলে--

অধিকার সহসায় পাওয়া রাজা আমার কোনো কালেই পায়নি।

অগ্নিসম আন্দোলন ছাড়া 'অধিকার' সর্বকালের অলৌকিক স্বপ্ন।

বন্দিনী স্বপ্ন

✍️সুভমিতা বাগচী

হঠাৎ করে স্তব্ধ হলো বন্দী হলো মন

শব্দ গুলো জানান দিলো গলায় আওয়াজ তোল।

বইয়ের ভাঁজে খাতার নিচে বড্ড দম বন্ধ

একটু খানিক বাতাস তো দিক উড়ুক তেপান্তর

নাহয়ে উঠুক গর্জে ভীষন আগমনী ঝড়।

কালির আঁচড় দেয় কি খোঁচা বুঝেও করি ছল,

এবার নাহয় উঠুক তুফান দিন বদলের কল।

হোক না একটু এলোমেলো সরিয়ে যত মনের কালো ,

মেঘলা আকাশ গর্জে আসুক প্লাবনের গান।

ঝড়ের পরেই আসবে শান্তি নিশ্চিত বিশ্বাস

যত্নে লালনে বন্দী মনে সোনালী হোক স্বপ্ন,

আবার ফিরবে গোছানো ভোরে স্বচ্ছ বিকেল।

লিখে রাখা কথা হয়ে যাবে গান

সুরের ভেলায় দেবো পাড়ি ছোট্ট শান্তিনীড়ে।

বৃথা বাণী

✍️রাজীব পাল

আমার ঘরের কোণে সুখ আয়োজনে

জেগে থাকা ওই পাখি,

প্রাণ সাজানিয়া আমার ধরেছে হিয়া

এনেছে ভুবনে ডাকি।


ছায়া ছায়া খেলা অদূরে দে দোলা

বাষ্প প্রতিমা সাজে,

ছিলেম বৈরাগীর ঘাটে ভিড়ালো হাঁটে

মাতাল মজনুর রাজে।


অতন্দ্র প্রহরী সোনার মুকুট ধরি

দিয়েছে হাতছানি,

রাখাল রাজা আজ পাইছে সাজা

বৃথা কাজে সব বাণী।


প্রভাতী ছায়া গোধূলির কায়া

ছাড়ছে সন্ধ্যা আঁধারে

ছেঁড়া ফাটা বুক সুখের অসুখ

মিটাতেই লুটে পড়ে।

তোমাকে ভালোবাসা যায় না

✍️ রূপালী মান্না

তোমাকে আজ আর ঘৃণা হয় না

মুহূর্তে জাগা ভালোবাসাও বিলুপ্ত হয় 

তোমার জন্য করুনা জাগে মনে

সত্যিই আজ বড় করুণা জাগে ক্ষনে প্রতিক্ষনে।

আজ আর তোমায় দোষ দিতে পারিনা

নিষ্পাপ শিশুর মতোই মাথা গোঁজা কোলে

জীবনের চূড়ান্ত সত্যিগুলো উগলে দিয়ে

শান্তি খোঁজো আমার বুকে।


ক্ষনিকের তৃপ্তির টানে তি ছুটে বেড়াও

এ নারী শরীর থেকে ও নারী শরীর।

যুক্তি দিয়ে বলো তুমি দুর্বল

ভীষণ দুর্বল তুমি ভালোবাসার কাছে 

দিনশেষে তুমি বুঝে যাও

কেউ তোমাকে ভালোবাসেনি

কেউ নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে স্বার্থসিদ্ধিতে

কেউ ধরা দিয়েছে প্রয়োজনে,

কেউ বা অসহায় হয়ে তুমি নামক

বটগাছের ছায়ায় শান্তি খুঁজতে এসে বুঝেছে

তোমাকে ভালোবাসা যায়না।


তোমায় ঘৃণা করতে পারি না কারণ 

তোমায় বিবেক দংশনে কাঁদতে দেখি

ছটফটিয়ে হা হুতাশ করতে দেখি।

তোমায় ভালোবাসতে পারি না কারণ 

তোমায় বিশ্বাস করা যায়না,

তোমায় নিয়ে অগণিত স্বপ্ন বোনা যায়না,

ভালোবাসা ভরা ভবিষ্যতের পথে

একসাথে হাঁটা যায়না কিছুক্ষণ।


নিজেকে আদর্শচ্যুত করেও

তোমার জন্য ভেবেছিলাম কিছুদিন

বহু অপ্রিয় সত্যেকে মেনে নিয়েও

ভালোবাসতে চেয়েছিলাম প্রাণভরে।

আমি বলবোনা তুমি ভালোবাসোনি

তুমি ভালোবাসো, আজও ভালোবাসো

নেশাগ্রস্থ মানুষ যেমন নেশার দ্রব্য ভালোবাসে

ভ্রমর যেমন তরতাজা ফুলকে ভালোবাসে কিছুটা সেরকমই।

কিন্তু প্রিয় আমি তো কোনো বেশ্যা নই

যে, নিজেকে বিলিয়ে তোমায় তৃপ্তি দেবো

আমি তো পৌরাণিক দেবী শীতলা নই যে

তোমার পাপের গুটিবসন্ত নিজ গায়ে মেখে নেব

আমিও মানুষ প্রিয়, রক্তমাংসের মানুষ 

আমারও অনুভূতিমাখা মন আছে 

আমার বিবেক আছে, বাস্তববোধ আছে 

আমার বিবেক আছে, বাস্তববোধ আছে।

আমি অপারক।


তোমাকে ভালোবাসা যায় না প্রিয় 

আজ আর তোমাকে ঘৃণা হয় না

জাগে শুধুই করুনা, বুকভরা করুনা!

ব্যারিকেড

✍️জুয়েল দেব

ভাঙ্গল প্রাচীল গড়ল দেশ,

করবি কি তোরা এবার শেষ।

মৃত্যু দিন ঘনিয়ে এল।

ভন্ডরা সব ভয়ে পালাল।

দেখনা তোরা কৃষকের দাম।

ধ্বংস করবে তোদের নাম।

ভয়েতে মোরা হারি না।

জীবনের কথা ভাবি না।

জন্ম যে দিন নিলাম জানি,

মরতে হবে সেও জানি।

মানবনা তেদের গুন্ডাগিরি,

ভয়কে মোরা জয় করি।

দেখ তাকিয়ে আজ তোরা,

সহস্র লাঠি আসছে দ্বাড়া।

যতই দেনা শক্ত গেইট,

ভাঙ্গব তোদের ব্যারিকেড।

ওরা কারা?

✍️পুনম মজুমদার

ওরা পরের বাড়ির ঘরের চালে

ভোরের সূর্য দর্শন করে।

ওরা হয় না মোহিত ফুলের সুবাসে

ওরা সদা ব্যস্ত খুঁটে খুঁটে কীট খোঁজাতে।

ওদের দুপুর গড়ায় খবর কালেকশনে

ওদের সন্ধ্যা নামে পরচর্চার পাঁচালিতে।

ওরা মিষ্টি মুখে বন্ধু পাতে

সুযোগ বুঝে চাবুক মারে।

ওরা তাক -ধিনা-ধিন নাচে

যখন,

পাড়া পড়শির হাড়ি ভাঙে।

ওরা পূর্ণিমা রাতে 

বিকৃত চোখে

চাঁদের কালো দাগ দেখে।

ওরা সহবাসে ও

প্রিয়জনের কান ভরে

পাশের বাড়ির বধূর

মধুচন্দ্রিমার কথা বলে বলে ।

    

ওরা কি তবে বিষপাথর!

না কি ওরা ভাঙা দর্পণ! 

 ‌না আগাছা..

বেঁচে আছি

✍️সঙ্গীতা নাথ 

মৃত্যুর মিছিলে এখনো যাদের নাম ওঠে নি

আমি দাঁড়িয়ে আছি তাঁদেরই সারিতে 

যাদের নাম লেখা হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায় 

তাঁরা সবাই এখন আছেন আমাদের মনের আঙিনায় 

আমাদের  প্রতিদিনের  গল্পগাঁথায় ।

আর আমরা প্রতিদিন চিৎকার করে 

নিজেই নিজেকে বলে যাচ্ছি 

বেঁচে আছি - বেঁচে আছি ।

অসীম শূন্যতা

✍️নজরুল ইসলাম প্রধান

অসীম শূন্যতায় 

ছুড়ে ফেলে আমিত্ব খুজে চলি আমাকে,

প্রকৃতির বিশালতায়

 নিজেকে মেলে ধরে খুজে পাই কিট,

সুন্দরের মুখ পানে চেয়ে দেখি বড় একা সে,

একাকিত্বে এক হয়ে গেছে তার মুখ-পীঠ, সব।


মানুষের বর্নিল বিবরনে 

মন খারাপ হয়ে গেছে তার;

সে তার বিবরন প্রকাশ করে আমাকে করেছে কীট,

আমি যে মানুষ।


পাহাড় তার বিশালতায় 

আকাশকে ছুয়ে যাওয়ার পায়তারা করে,

অথচ, আমার বুকের ছাতার নিচে 

লুকিয়ে রেখেছি

সাতটি আকাশ, 

সেখানেও রোদ ওঠে, ঝর হয়, 

মেঘে মেঘে কখনো ঢেকে গেলে চাঁদ আমি মন্ত্র মুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকি, অপেক্ষা করি ঈশ্বরকে দেখবো বলে।

হঁচা ভাতের জল

✍️উজ্জ্বল ভট্টাচার্য্য

আঁর নাই হাডান তোর নাই হাডান

আঙ্গো বাপের কি?

মাতার উপরে তাল বাজার

আরেক বাপের ঝি।

এতে কয় এন্নে রেন

হেতে কয় হেন্নে,

আঁর হরানে কি খুঁজে

বুজাই আঁই কেন্নে!


বালারলাই আজ্ঞাইলে আদিগিলামি

একটু উল্টিলেই বেদ্দঅপ,

কোইল্জা হুরি সালির টাল,

এগিন হেতিরগো শখ।


রাস্তাত বাইরোইলে সাগলে ভেঙ্গায়

মাইনষে ভেঙ্গায় অনলাইন,

হুতি হরি ঘুম যাই

মরি বাইচতে কি ফাইন।


ঘরের হিঁচে গোবরের টাল

হদ্দ টেবায় রাবারের মাজাত,

হেতে বেডার ঘিনিত্তা নাই

আরিজ্ঞা কারি খায় হাঁতের ভাত।


মানুষ বুজি এইচ্চা শস্তা

লাইত্তাই উষ্টাই হুটবল!

খের মাডিত উত্তোই নস্বার

রক্ত হঁচা ভাতের জল!

অসহ্য

✍️সায়ন দাশগুপ্ত

মাঝরাতেতে ঘুম ছুটে যায় 

অঙ্গে ধরে জ্বালা, 

অন্য কিছু নয় হে মশাই, 

মশায় ঝালাপালা। 

কম্বল বা চাদর দিয়ে 

যতই ঢাকো কান

শুনতে তুমি বাধ্য ওদের 

পোঁ পোঁ পিঁ পিঁ গান। 

ধূপ ধুনো বা তেল জ্বালিয়ে 

শুধুই খরচ বাড়ে।

মশার বংশ হয়না ধ্বংস 

বাড়ছে দ্বিগুণ হারে।

টেনিস ব্যাটে মরল কতক

চটাস্ পটাস্ করে, 

পাঁচটি মিনিট পরেই দেখি

ফের গুনগুন ঘরে। 

শেষকালেতে ব্যাজার মুখে 

টাঙালাম মশারী, 

ঘরের ভিতর ঘর বানিয়ে 

ঘুমের দেশে পাড়ি।। 

আমার পরিচয় হিমালয় (২)

✍️পঙ্কজ কান্তি মালাকার

অজস্র ভূকম্পে'ও অটল অক্ষয়,

আমার পরিচয় হিমালয়।

পায়ের নিচের মাটিতে কাঁটাতারের প্রাচীর তুলে,

এক পাহাড় প্রশ্নচিহ্ন খড়্গ তুল -

ইতিহাস সাক্ষ্য 

এসব নেহাত'ই তুচ্ছ আমার উচ্চতার কাছে,

কত জলপ্রলয় পা ধুয়ে গেছে।


এই জল মাটি ও সূর্যের আলোয় উদ্ভূত এই অরুণকলা হৃদয়,

বরাক গঙ্গার জলে স্নাত আমার অস্তিত্বের 

কণায় কণায় ফুটে আছে ফুল আত্মপরিচয়,

হনুমানের মতো বুক চিরে দেখাতে পারি-

লাল হৃৎপদ্মে মায়ের আসন,

বুকের রক্তগঙ্গায় মায়ের অভিষেক হয়;

বারবার অগ্নিপরীক্ষায় শুচি হই

-আমার সাত্ত্বিকতার ব্রত ও পবিত্রতাই অভয়

অজস্র ভূকম্পে'ও অটল অক্ষয়,

আমার পরিচয় হিমালয়।