✍️পঙ্কজ কান্তি মালাকার
সব বেকার জানে না
বেকারত্বের জ্বালা কত মারণমূখী,
তবে প্রত্যেক বেকারের
একেকটা জ্বালার গল্প আছে-
কারো ফোড়া তো কারো আগ্নেয়গিরি;
কেউ বাবার হোটেলের 'অন্নধ্বংসকারী'
বা কারোর বাবার হোটেল নেই
কিংবা মায়ের হাঁড়িতে ভাত নেই
ক্ষুধার অন্নের যোগান করতে সে হন্যে হয়ে ছোটে
তাই এমন কিছু করে
যা তার যোগ্যতার পক্ষে যোগ্য না
কালঝড়ে ঝড়ে গিয়ে যে মুকুলভরা আমেরডাল
উনুনের ক্ষুধা মেটায় সে জানে তার দাহ।
তারা স্বপ্নবাজ ছিল,স্বপ্ন দেখতো ও দেখাতো
এক বাসযোগ্য পৃথিবীর,
তাদের জীবন এই দুঃস্বপ্নে ভূগে অন্ধ হয়ে গেছে
হয়তো চোখের মণি অন্য কারো ঘরের
প্রদীপ জ্বালতে গেছে,
আজ তারা স্বপ্ন দেখেনা, দেখতে পারে না
এই আধমরা জীবনে,
আজো শেষ চেষ্টার না মরা উদ্যম তাদের প্রাণশক্তি।
অকর্মণ্যের'ও একটা কর্ম চাই
যা দিয়ে তার ও পরিবারের পেটের দায় ঘুচাবে।
বেকাররা অকর্মণ্য নয়,বিশেষ কর্মদক্ষতা রাখে
কেউ বিশেষ কোন লক্ষ্য রেখেছে
তার আছে কোন বিশেষ পারদর্শিতা
বা বিশেষ কোন সেবার প্রতি দায়বদ্ধতা
সেটা তার আমরণ ব্রত,
সুযোগ পাচ্ছেনা সে নিষ্টাবান
তার ব্যথা জানবে শুধু খরস্রোতা
যে পাহাড় চিরে
এক বুক জল নিয়ে
প্রাণপণে ছোটে
জনপদের দিকে
এবং পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজেই মাথা কুড়ে মরে।
সব বেকারের জ্বালা সমান নয়,
সবার জ্বালা আছে।
তাদের জ্বালা খর দুপুরের ঘামে ঝড়ে
ফুটপাতের ভিড়ের গন্ধে মিশে
রাতের অঘুমে স্তব্ধ,
তাদের ব্যথাবিষে নীল এই পৃথিবী।
No comments:
Post a Comment