স্নেহাশীষ রায়
বেঁচতে এসেছি, আমি বেঁচতে এসেছি,
বাড়িতে বসে কাজ করতে নয়...
বেঁচা হয়ে গেলেই চলে যাব।
এই তো ধরুন দুটো কুমড়ো,
আর একটা লাউ-
এই তো সেদিন আস্তো আস্তো
বিশাল চারটা তরমুজ বিক্রি করেছি।
ঘরের পশ্চিমের পেয়ারা গাছের সুস্বাদু পেয়ারা,
বাবা খালি ওগুলো মানুষকে বিলিয়ে দিতো।
ভেবেছি এবারে ওগুলো বেঁঁচে টাকা আনব।
ভাবছিলাম ঘরের দক্ষিণে
বাবা যে চাল কুমড়োর বীজ ফেলেছিল,
সেখানে কিছু গাছ ধীরে ধীরে
মাচায় বেয়ে উঠে এখন দু-একটা কলিও এসেছে।
একটু বড় হলেই এগুলি বেঁচে দেব।
ঘরের মানুষকে খাওয়াব কেন?
তারা কি সব্জির পয়সা দেয় আমায়?
বাবার এত এত লাগানো গাছ
আমি হাটে বিক্রি করে সংসার চালাবো।
ঘরের ওরা তো আমায় খুব বিশ্বাস করে,
মায়ের বয়স হয়েছে, দিদির চোখ থেকেও অন্ধ।
তারা জানে আমি কখনও ভুল কিছু করিনা।
বাকি রইল প্রতিবাদী ছোটভাইটা-
আর সে যদি এসে তার লালচক্ষু দেখিয়ে
চ্যাটাং চ্যাটাং ভাষায় কিছু বলে,
তাহলে তাকে আজ রাতেই বালিশ চাপা দিয়ে
সত্যি সত্যি আমি মেরেই ফেলব।
খালি খাই! খাই! খাই!
একবার সে বুঝেনা যে,
সব্জি বেঁচলে ঘরে টাকা আসবে,
আর টাকায় তো সবকিছু হয়।
তাই আমি বেঁচেই যাব বাবার লাগানো ফসল।
বাড়ির লোককে খাওয়ানোর জন্য নয়।
No comments:
Post a Comment