অমলকান্তি চন্দের গুচ্ছ কবিতা
এক
মন দুলে কি সই?
হলুদ রঙা তোমার শরীর, শাড়ির ভাঁজে জবার কুঁচি,বাতাস এলে পাপড়ি দুলে,মন দুলে কি সই?
মন যে তোমার উড়াল পাখি, ইচ্ছে ডানা স্বপ্ন আঁখি, আমার বাড়ির তেঁতুল ডালে দু'জন বসে রই,মন আমারও উড়াল পাখি জানিস কিরে সই?
দু'টো পাখি মাঝ গগনে,ডানায় ডানায় বৈঠা টানে, বাঁশের পাতা উঠছে নড়ে, বাতাস এল সই, আমার পাড়ার শিউলি যতো, তোমার পাড়ায় আদর কতো,জানিস কিরে সই ?
তোমার পথে নিত্য চাওয়া, সেদিন বুঝি সাঁঝ বেলেতে,আলোর কুঁড়ি ফুলের মতো,মজছে মনে সই,একলা ঘরে ঘোরের ভেতর, তোমার কথা কই।
*****
দুই
মুখোশ মেঘের
কুত্তা ডাকে গলির মোড়ে
বাড়ির ভেতর রাতবিরেতে,কানগুলো সব সজাগ তখন,আসল নাকি কেউ ?
চোর পাড়াতে সবাই থাকি, সারাক্ষণই ঘেউ।
মানষে ভাবে কালার গাঁও-এ,পটু হাতের আঙুল নড়ে,
চিটার কদর জানলি কবে ? লেপ্টে মুখে মুখোশ মেঘের, আকাশ ডাকে ঐ।
কুত্তা ছুটে, আমিও ছুটি,পাড়ার মোড়ে বাঁশের খুঁটি,জড়াজড়ি সাপরা নাচে,
জিভের ডগায় ঝরছে লালা, একটা দু'টা ঝুলছে তালা,জং ধরেছে ঠোঁটের উপর,
দাঁত করাতে কাটছ বুঝি, গাছের নীচে অঢেল আঁধার, চোরের ঝোলায় লুকিয়ে রাখে।
******
তিন
তখন থেকে রাত্রি বাড়ে
আমি তখন চুপটি ছিলাম, ষাঁড়ের মতো সন্ধ্যা নামে, শিউলি গুলো ঝুলছে গাছে,পুব বাতাসে গন্ধ ভাসে।
দু'টো ডানায় চামচিকারা, ঘোরের ভেতর উড়াল দিল, বুকের উপর নখের আঁচড়,দগদগে ঘাঁ,মলাট ছিল।
দেখছে তারা শিয়াল, মেকুর,ঢোক গিলে যায়, জলের স্বাদ, মাথার উপর একলা আকাশ,পাল্টি খেলেই মেঘলা শ্বাস।
আমায় কেবল যাচ্ছে ডেকে,তর্জনীতে ধমক কতো,গরম ধোঁয়া ইটের কলে,যায় শাসিয়ে ইচ্ছে মতো।
মেঘের মতো কালির দোয়াত, লেপ্টে আছে জবার শরীর, ঝিঁঝিঁর ডাকে ঘোর কেটে যায়,তখন থেকে রাত্রি বাড়ে।
*****
No comments:
Post a Comment