ইংরেজী সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব
রাজেশ পাল
অপার গুণের অধিকারী , বাগদেবীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি জগৎ বিখ্যাত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধুমাত্র বাংলার কবি নয় , তিনি হলেন সবার । নিজের জ্ঞান দ্বারা ভরিয়ে তুলেছিলেন এই বিশ্ব ভূবনকে । ওনার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে । ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির জন্য রবি ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পান ।
তথাকথিত পড়াশোনার গন্ডি কোনদিন কবি মনকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়নি । রবীন্দ্রনাথ যে উন্মুক্ত মেঘ ছিলেন উনাকে বিদ্যালয়ের চার দেওয়াল বেঁধে রাখতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে বিলেত যান আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে , সেখানে গিয়েই কবির পরিচয় হয় ইংল্যান্ডের সুনাম ধন্য লেখকদের সাথে । কবি একদিকে ইংল্যান্ডের লেখকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন অপরদিকে উনাদেরকে প্রভাবিত করেছেন । বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক দ্বারা রবীন্দ্রনাথ গভীর ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন । বিখ্যাত আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস কবিগুরুর "গীতাঞ্জলি" পড়ে এতটাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিল যে তিনি "গীতাঞ্জলির" মুখবন্ধ রচনা করেন । ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , ইয়েটস এর সংস্পর্শে আসে এবং ইয়েটস কবিগুরুর সাক্ষাৎকার অন্যান্য কবিদের সাথে করিয়ে দেন । রবীন্দ্রনাথ এবং ইয়েটস এর দৃষ্টিভঙ্গির অনেকটাই সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় , দুজনেই তৎকালীন রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং উনাদের লেখনীর মাধ্যমে সেটা তুলে ধরেছেন । দুজনেই নোবেলজয়ী ছিলেন । স্বতস্ফুর্ত ভাবে নিজদের ভাবধারাকে ব্যক্ত করেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। "ডাকঘর" , নাটকটি ইয়েটস এর সুপারিশ ক্রমে আইরিশ নাট্য মঞ্চে উপস্হাপন করা হয় এবং লন্ডনেও কবিগুরুর বিভিন্ন নাটক প্রদর্শন করানো হয় ।
সাহিত্যিকের নির্দিষ্ট কোনো ঘর নেই , মনের আনন্দে চারণ কবি হয়ে ঘোরাফেরায় । তিনি বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়েগেছেন এবং পশ্চিমি দেশের সাথে সাহিত্যিক দিক থেকে মৈত্রীর সেতু স্থাপন করেছেন।
No comments:
Post a Comment