Slideshow


Showing posts with label শব্দ ফটক. Show all posts
Showing posts with label শব্দ ফটক. Show all posts

মিছিল

 ওটা কিসের মিছিল?

সবার জন্য  শিক্ষার দাবিতে  মিছিল।


কিসের

কথা বলার অধিকারের মিছিল


কিসের

বর্ণ বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে  ধিক্কার  মিছিল।


কিসের

ভুখা  মানুষের খাদ্যের দাবিতে মিছিল।


ঠক ঠক করে   এগিয়ে যাচ্ছে একদল মানুষ

হাতে--ঝান্ডা----।

কাল রাতে মনীষাকে ধর্ষণ করেছিল-

এক দল জানোয়ার।

তার বিরুদ্ধে  মিছিল----


ওটা  কিসের

সব জাতির মানুষ একসংগে হাটছে

গর্জে   উঠছে

দেশ ভাগ করার বিরুদ্ধে -

গর্জমাান মিছিলে।

নদীর কথা

✍️অশোকানন্দ রায়বর্ধন

নদীর অনেক কথা থাকে তার বুকের ভেতর

অথচ তার কথা বলবার সময় হয়না ।

হয়না সময় কিঞ্চিৎ দাঁড়াবারও ।


তার ঢেউয়ের তালে আমরা উৎফুল্ল হই ।

তুলনা করি নৈসর্গিক গানের সাথে

অথচ নদীর বুকের ভেতর ঢেউয়ের দোলার গর্ভে 

কতো কান্না কতো কান্না

দুঃখে গড়া নদী বয়ে যায় ভাটির দেশে সমুদ্রের কাছে

সমস্ত দুঃখ বিসর্জনের আশায়।

নীরব নদী একা একাই গড়ায়।

চাঙ্গর

✍️অমলকান্তি চন্দ

মেঘের পূর্বাভাস ঠেলতে ঠেলতে

নোনা ঘাম গড়িয়ে পড়ে এবড়োথেবড়ো চিবুকে

সম্মোহিত লৌহ দণ্ড

পেশীতে ভাঙ্গতে থাকো চাঙ্গর।


উড়াল স্বপ্নগুলো

কপাটের ওপাশে মানচিত্রের কলঙ্কিত পর্ব

খননে তুমুল কোলাহল

পাঁজর ভাঙ্গার শব্দ কোলাজ।


যে পথে বিপুল আড়ম্বর

নিত্যির দুপাশে দুলতে থাকে মানদণ্ড

পাকস্থলীর বেহুদা পেশী জুড়ে, খলবল করে 

জ্বালাময়ী টক্সিন।


শরীরে জমাট বাঁধে প্রৌঢ়

বিড়ালের থাবার নীচে তাড়িত স্পন্দন

তর তর করে পাহাড় ডিঙ্গোয়

কেবল নদির কাছে গচ্ছিত রাখে আমনের স্বপ্নসুখ।


উড়াল পাখিদের ঠোঁটে ফণিমনসার ফণা

রং বদলাতে থাকে তক্ষক কোমায়

প্রবল ঘেরাটোপের ভেতর রাত্রি নামে

চারিদিকে তুষার বৃষ্টি।


নাঙ্গলের মতো ত্রিভঙ্গ মুরারী

নাগালে দুহাত

নাভি ছুঁতে ছুঁতে

পরম মমতায় বুকে আগলে রাখে মাটি।

নগ্নতা

✍️কুশল ভৌমিক 

যখন আমার প্রেয়সীর ঠোঁট 

কবিতায় হয়ে ওঠে কমলালেবুর কোয়া

রমণীর স্তনবৃন্তে ফোটাতে চাই ফুল 

মজতে চাই দীপ্তকাম মাধুরীর রসে

কী ভীষণ তেড়ে আসো তুমি 

বলো আমার মনন ও মগজে পশ্চিমা নগ্নতা।


অথচ যারা স্বচ্ছ ভোটের বাক্সে ভরে দেয় অস্বচ্ছ বিভাজন 

ধর্মশালা থেকে তাড়িয়ে দেয় ঈশ্বর 

গলা টিপে হত্যা করে সুন্দরবন 

কৃতদাসের হাট বসে না জেনেও

তোমাকে-আমাকে বানিয়ে রাখে কৃতদাস

তাদের একদিনও নগ্ন বলার সাহস পেলে না তুমি

তোমার চোখে ওসব বুঝি নগ্নতা নয়?


কেবল আমার কাপড় খোলাটাই দেখলে

যারা প্রতিদিন একটু একটু করে বস্ত্রহরণ করছে পৃথিবীর

তাদের তুমি কিছুই বললে না 

একবারও ওদের চোখের দিকে আঙ্গুল তুলে

জানতে চাইলে না--

বিবস্ত্র করার আগে ওরা পৃথিবীর অনুমতি নিয়েছিল কিনা।

উদ্যোগ

✍️তৈমুর খান

আমার হাসি দুল পরেছে 

আমার খুশি চুল বেঁধেছে 

আমার ইশারা, আমার নীরব 

একা একা আসছে যাচ্ছে 


ভাবনারা ক্লান্তিবিহীন 

দূরে দূরে বয়ে যাচ্ছে তরী 

নিশীথ কোলাহলের কাছে 

এ আমার আত্মদ্রোহ 

বিজ্ঞাপন কোথাও রাখিনি 


তবু জ্যোৎস্না নীল হল 

নীলাশ্বের কাছে 

দৈন্যরা স্ফুরিত ঘুম 

কাজল পরেছে 


আমি সেই মুগ্ধতার খোঁজে 

এখনও নষ্ট হই 

এখনও বিলম্ব হয় 

আমার সংগ্রাম

এই তরাই ডুয়ার্স আমার ভালো লাগে

✍️চিত্তরঞ্জন  দেবভূতি

এক ঝাঁক কবিদের  কবিতা  আর  এই  তরাই  ডুয়ার্স,

আজও  আমার  সমান  ভালো  লাগে,

ঐ  নীল  পাহাড়,সাদা  মেঘ,হাতি,গন্ডার,ময়ূর ময়ূরীর নাচ,

এই  সব  দেখে  মনে  আনন্দ  জাগে,

এই  করোনার  আবহে  কমে  গেছে কাজ,

আমি  তো  এখনও  তেমনি  আছি,

যেমন  ছিলাম  আগে৷

চা  বাগান,ঝর্ণা অরণ্য  নদী ,

খুব  ভালো  লাগবে  তোমার  এদিকে  বেড়াতে  আসো  যদি৷

প্রকৃতির  কোলে  হাজার  কবিতা,ভোরের সূর্য আর  মায়াবী  রাতে  রূপালী  চাঁদ  যেন  লিখে  রাখে,

এই  তরাই,এই  ডুয়ার্স  আজও  আমাকে  যেন  ডাকে৷

প্রথম আলোয়

✍️মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

ভোরের প্রথম আলোয় যেদিন

এসেছিলে আমার দ্বারে

সোহাগে দিয়েছি ঠাঁই,

স্নেহানুরাগে লালায়িত করে দেখিয়েছি পথ।


হৃদয়ের সঞ্চিত পুঁজি বিলিয়েছি অকাতরে

শুধু তোমার স্বপ্ন পুরনের অভীপ্সায়।

আশার ইমারত করেছি রচন,ছিল কাম‍্যতা

তোমারি ভুজে আমার খোয়াব হবে সমর্পণ।


ধীরলয়ে বিকশিত প্রতিভা,হলে উর্বীরূহ

ভুলে আমারে স্নেহডোর ভেদে

ফিরিছো অপর কোন দ্বারে,নবত্বের সন্ধানে,

আমার লালিত স্বপ্নের করে খুন।


অগ্নিদগ্ধ কুচ,নিভৃতে ঝরে নয়নবারি,

তবুও তোমার সফলতার প্রত‍্যাশী।


আমার অপূর্ণ স্বপ্নের পূর্ণতা দিতে

না হয় আগামী ভোরের প্রথম আলোতে

খোঁজে নেব অন‍্যকোন একজনাকে

ঠিক তোমারি মতন,

তবুও আমার স্বপ্নের হবেনা অঞ্জলি।

স্ব-অধীনতা

✍️ চন্দন পাল

স্বাধীনতা মানে নিজের সংসার,

নিজে চালানোর ভার।

পক্ষপাতহীন দূরদর্শিতায়,

সংসারোন্নতিই সার।


স্বাধীনতা মানে জমি দখল নয়, 

নয় ভাঙাচুড়া।

যা খুশি তাই বলা নয়,   

নয় সমতা কাড়া ।


স্বাধীনতা মানে শোষন নয়,

নয় বড়ত্ব ভাব। 

নির্বলের ভাগ আত্মসাৎ নয়,

নয় ভীতির চাপ ।


স্বাধীনতা মানে কুপ্রযুক্তি নয়, 

নয় ইংরেজের ধাচ্।

বুদ্ধিজোরে বোকা বানানো নয়, 

নয়  ক্ষতের কাজ।


স্বাধীনতা মানে পতাকা তোলা নয়, 

নয় 'জনগন' গান।

দেশপ্রেমী কত অনুসরণ করি,

সেটাই  মূল্যবান।


স্বাধীনতা মানে মাঝপথে চলা নয়, 

নয়  গালাগাল। 

নির্লজ্জ, পরিবেশ দূষন নয়,

নয় উশৃঙ্খল চাল।

বাঁচতে দাও

 ✍️বিমান প্রামানিক 

আমি একটি বৃক্ষ হতে চাই 

আমার বুকেতে পথিক আশ্রয় পায়। 

আমি আমার শাখা-পাতায় রাখবো ঘিরে,

মাঠের চাষী আমার ছায়ায় আসবে ফিরে।


আমি একটি বৃক্ষ হতে চাই 

আমায় ঘিরে কত পাখি বাসা বানায়। 

আমার একটি সবুজের শাখা 

মেটাই কত পশুর পেটের ক্ষুধা। 


আমি একটি বৃক্ষ হতে চাই 

পথের ধারে ছায়া করে রাখবো তাই। 

পথের পথিক আসবে যখন এ পথে

একটুখানি বসে প্রাণটি জুড়াবে।


আমি একটি বৃক্ষ হতে চাই 

মাথার উপর ছাতার মত থাকতে চাই। 

বৃষ্টির জলে মাটি যেন ক্ষয় না হয়

মাটির পরে রাখবো ধরে আমার শাখায়। 


আমি একটি বৃক্ষ হতে চাই 

বৃক্ষ হয়ে ছাতার মত থাকতে চাই। 

কত না প্রাণীর আমি জীবন বাঁচাই

আমাকে মেরো না তোমরা ভাই।

মাছরাঙা শহর

✍️অনিকেত মৃণাল কান্তি

সব কথা নিয়ে যায় টোবর্গ বিয়ার।যেভাবে রোজ তাকিয়ে দেখি নিজস্ব জানালার কপাট।শিশুটি ঢিল মেরে ছুটিয়ে দেয় সংগমের সাপ।প্রত্যেক প্রদোষে এসে ডেকে যায় নারী।কাড়াকাড়ি ছেড়ে দিয়ে নিরালা দুপুরে,বড়শির মায়া নিয়ে বসে থাকি পুকুরের ঘাটে।এখন কাটিনা দাঁড়ি আর একাদশী রাতে।চাঁদ ফিরেছে চিরচেনা ইস্কুলের মাঠে।এর থেকে সামান্য দূরে আমাদের পিতার শৈশব থমকে দাঁড়ায়।শুঁড়িখানা বন্ধ এখন বিবেকের শহরে।হবিষান্য না খেয়ে কারা জানি হরিতকি চিবুয়?ডেওয়াফল চুষে বাঁচি নীতিবৃক্ষের পাখি। লায় লায় বাড়ি আমি!হুসহাস করি!ছু মারার পরিবেশে এসব লিখি।হতবাক প্রাণীটির হাহাকারে সবকিছু শুকায়।এসব দৃশ্য দেখে এলোমেলো আঁকি।মৌসুমি ঘূর্ণঝড়  কবে তবে নিয়ে গেছে পুকুরের জল?আঠালো মাটিতে এখন সব মাছ মমি হয়ে আছে!কবি মরে গিয়ে তবে কে উঠে দাঁড়ায়?

ব্ল্যাঙ্ক ভার্সেস

✍️অর্পিতা আচার্য

১.

এ তল্লাটে

কখনও বাঘিনী দেখিনি

দেখেছি কয়েকটা ক্ষয়া ওঠা, আধামরা

পুরুষ ইঁদুর!


২. 

খনার কাটা জিভ থেকে 

যে সব সরীসৃপেরা মাংস আর রক্ত খেয়েছিল

অযুত কল্পকাল তারা বলে যাবে

'ঠিক ঠিক'

এই সবই একপ্রকার ঠিক ছিলো...


৩. 

যোনিদ্বার থেকে ঝরে পড়া রক্তে 

যদি ভিজে যায় নলখাগড়া বন 

তবে আগামী মরশুমে

শুধু একটা মুষলপর্বের অপেক্ষা

সমকাল-৫

✍️দেবাশ্রিতা চৌধুরী

একটি তারা খসে পড়লো আকাশ থেকে।

একটি ফুল কুঁড়িতেই ঝড়ে গেছে বৃন্ত থেকে।

একটি ঘর ভেঙে গেলো না গড়ে উঠতেই।

জলাশয়ের জল এখন মরুভূমির শুষ্কতা বহন করে।

লাঙলের মুখে কৃষকের রক্ত ঝরে ঝরে জমাট।

পচনশীল পদার্থ নিয়েছে দখল সসাগরা পৃথিবীর।

স্পাইরাল বাইন্ডিং -এ গ্ৰন্থিত করা জাগরণের স্বপ্ন।

ধূসর স্মৃতি

✍️সম্পা বৈদ্য 

আজকাল শুধু স্মৃতিতেই ছবি আঁকি আমার গভীর  প্রানের কথা।

গন্ধরাজে ও গন্ধ নেই এ এক আজগুবি কথা জেনেও মেনে নিয়েছি নিজের বিকলতা।

 আগের মতো আর নেই সেই আকুলতা, ব্যাকুলতা!

যেন এক অচেনা জীবন!

অথচ বড্ড চেনা চেনা মনে হয়।

 আজও রজনীগন্ধার মালা খোপায় গুজি।

আজও বর্ষা এলে কদম ফুলে স্পর্শ করি।

তবু  নেই কিছু আর আগের মতন।


স্নানের ঘরে স্নান করি 

তবু কেমন  যেন অশুদ্ধ রয়ে যাই।

ঠাকুরঘরে আতর ছিটাই তবু অপূর্ণ থেকে যায় আমার প্রানের পূজো!

ধূপধোনা কাশর ঘন্টা খোল কর্তাল সব ঠিক  যেন আগের মতন,

তবু যেন অপূর্ণতায় দিন গুনছি ভীষণভাবে।

ধূসরস্মৃতি নিয়ে কাটছে দিন কোনোরকম।

কবিতা- মানুষ কোথায়?

✍️স্নেহাশীষ রায় 

সাড়ে তিনহাতের শরীর হলেই প্রমাণ হয়না মানুষ,

ধর্ম আর জাতির বশে মানবতার ফানুস।

হিংস্রতা আর হিংসা যখন বাড়ছে প্রবল দেশে,

মানুষরূপী কয়েক পশু গিলছে ছদ্মবেশে।

কোথাও দেখি প্রভাব বাড়ে প্রবল জাতপাতের,

কেউ তো আর বলেনা কথা অল্প ডালভাতের।

কোথাও দেখি হিংস্রভাবে বাড়ছে ধর্মলীলা,

শিক্ষিত সব দেখছি খালি অন্ধরাজার চ্যালা।

যেদিকেই চাই দেখতে পাই হিংসা, জাত আর ধর্ম,

কোথাও দেখি পাইনা খুঁজে মানবতার কর্ম।

মানুষের কথা বলি যখন শুনতে কেউ চায়না,

তারা আজ আর কেউ এখন একতার গান গায়না।

কেউ ভাবেনা তাদের কথা যারা ঘুমায় পথে,

দুটো অন্ন পায়না তারা মৃত্যু তাদের সাথে।

দেশকে নাকি গড়বে তারা সোনার পাতে মোড়া,

রাজনীতি আর সুবিধাবাদী চালছে কালো ঘোড়া।

দেশ

✍️দীপা সরকার

আজ আমি তোমাকে লিখছি দেশ

গত রাতে যে মেয়েটির মৃত দেহ 

পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল পুলিশি টহলদারিতে 

আমি সেই মেয়েটির কথা লিখছি তোমাকে । 


যৌন লালসা মেয়েটিকে মৃত্যু উপহার দিয়েছিল 

মেয়েটার ক্ষত শরীর মধ্য রাতে আগুনে জ্বলছিল 

এই আগুনের শেষ নেই -

দেশ মেয়েটি নেই এখন ।

তবে আরো অনেক মেয়ে আছে এই  দেশে। 

কী হবে তাদের? 

নর পিশাচ দের দল ছিরে খাবে মাংসে দেহ?

তারাও কি একই ভাবে আগুনে জ্বলবে মধ্য রাতে?  


তুমি তো দেখছো দেশ 

দেখছো  ক্ষত, শরীর -রক্ত 

দেখছো আগুন 

দেখছো মৃত্যু! 



তুমি কি নারীর  মাংস খাওয়া পিশাচ দের  দেখতে পাও না? 

তোমার বুকে আগুন নেই তাদের পুড়িয়ে মারার জন্য ?

 কিন্তু দেশ, মেয়েটি যদি বেঁচে থাকত 

কি হত ?


কথাবার্তা  বলতে পারত, গান গাইতে পারত ? 

পারত না ।

দেশ আমি অবাক হই  তোমাকে দেখে

ঐ মেয়েটিকে  দেখে ,

ঐ মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে,  

কিন্তু তুমি তো বেঁচে আছো দেশ ।


আমার কষ্ট হয় দেশ

কষ্ট হয় রক্তপাত হিংস্রতা দেখে 

নর পিশাচ দের দেখে 

কারণ  আমিও যে  মেয়ে ।


আরো কতো রক্ত ঝরা, কতো   ক্ষত শরীর 

আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া দেহ দেখতে হবে আমাদের?

আনন্দ ধারা

✍️ডঃ সমীর ভাদুড়ী

আনন্দ ধামে এসেছি মোরা

আনন্দেরই সঙ্গী হতে,

আনন্দই ব্রক্ষ্ম আনন্দই সত‍্যস্বরূপ

সবকিছুর উৎসস্থল এই আনন্দ।

জীবন সায়াহ্নে আনন্দেই লীন হই আমরা।

আকাশ পানে তাকালে মনে হয় 

মেঘরাশি আনন্দের পশরা নিয়ে বসেছে

সবার মনসংসারে লুকিয়ে আছে আনন্দ মধু

এই মধু ভাগ করলে আরো সুমিষ্ট হয় ।

আমরা অনুভব করিনা তাই আস্বাদনে বঞ্চিত

শিশু মনের মতো পবিত্র হলেই

এই আনন্দ মধুর আস্বাদন পাওয়া যায়।

অন‍্যের আনন্দে নিজের আনন্দ

অন‍্যের সুখে নিজে সুখী

আমরা যেন এই ভাবনায় বাঁচি

তবেই আনন্দ বাতায়ন

কর্ণে দোলা দিয়ে বলবে

আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে।।

দেবদাস

✍️চন্দন পাল

অপ্সরা, তোমার মুক্তির মাত্রা নিশ্চিত করতে, পতিত দেবদাস হতে রাজি।

পবিত্রতার প্রতিবাদী প্রফেট ইজাকেইল, তোমায় কুর্নিশ ।


আফ্রোদিতি আর ইস্টার দেখো, 

তোমার বাগানে ফোটা বৃত্তিফুল ,

শোভা ছড়িয়েছে ত্রিভুবনে।


রোম গ্রিক এথেন্স সিসিলি আরব পেরিয়ে  বাবুসমাজে। 

ভোগের ঢেউকে শান্ত করতে আজও জেগে বৃত্তি বিতান। 


তোমাতেই  নিহিত রাজপাট, জমিদারী আর ঘর ভাঙা-গড়ার ইতিহাস।

তুমি কখনো দেবদাসী, কখনোবা পবিত্র মাটি।


শুদ্ধতার লক্ষ্যে তোমার মমতা হোক পাখির মত, 

বাহু হোক লক্ষীবাঈ আর সম্পত্তি, পুরুষসম।


বিচূর্ণ যৌথ পরিবার , কেড়ে নিয়েছে তোমার পছন্দ পুরুষ।  তোমার সমানাধিকার। 


জানি, রোম রাণী থেউডেরো, অম্বাপালীদের লিঙ্গস্বাধীনতা কেউ নিতে পারেনি। 

তোমার স্বচ্ছ স্বাধিকার রক্ষায়, 

মূল্যমানে, মেনে নেব দেবদাস জীবিকা যাপন।

              **************

 আফ্রোদিতি (ব্যবিলন দেবী)

 ইস্টার (ফীনিশদেব)

চিত্রপট

✍️শিশির অধিকারী

চারিদিকে বিধস্ত 

ক্ষত বিক্ষত এক মহানগর

শুধু মাঝে মাঝে কাল ধুঁয়া 

আমি একা 

এই শূন্য মরুভূমিতে ,

হাটছি আর দেখছি

হঠাৎ  কান্না ভেসে আসে 

এগিয়ে যাই 

দেখি

মৃত মায়ের রক্ত।ত্ত  কাপড়ের নীচে 

সাদ্যোজাত ভূমিস্ট শিশু 

হাত পা নারছে আর কাঁধছে

হ।য় ঈশ্বর  

এর  জায়গা  কোথায়?

লংমার্চ

✍️শব্দ শ্রমিক

নগ্ন আজ সমাজ ব্যবস্থা, নগ্ন দেশের শাসন যন্ত্র,

নগ্ন প্রবৃত্তি, নগ্ন সংস্কৃতি, রাজপথ তাই অশান্ত।

নগ্ন মুখেতে কালো চশমা, আড়ালে নগ্ন শোষন তন্ত্র,

জোটেনা সময়ে সঠিক খাদ্য, ছড়ায় সমাজে ধর্ষণ মন্ত্র।


জমাট বেঁধেছে প্রতিবাদী মুখ, চলছে এগিয়ে লং মার্চ,

ভীত সন্ত্রস্ত ধর্ষককূল, চলছে মিছিলে লাঠিচার্জ ।

শোনরে ওরে অত্যাচারী, শোনরে তোষন শোষন রাজ,

জয়ের লক্ষ্যে লড়াই জারি, লাল কালিতে উঠুক আওয়াজ ।


রক্ত যতই ঝরাবি তোরা, রাজপথ হবে রক্ত লাল,

রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে, উঠবে সুর্য আগামীকাল ।

রক্ত ঝরা শরীর গুলো, হয়ে উঠবে লাল নিশান ।

কলুষিত ঐ প্রাসাদ কক্ষে, বাজবে শোষিতের জয় বিষাণ।

ছুট-ছুট

✍️রমা চন্দ্র

হাঁটছ না তো, 

ছুটছ কেন?

ছুটছ এমন বেজায় জোরে!

বুকের হাঁপর ঘা মারছে...

বলছে প্রাণ যায় বেঘোরে,

ছুটে চলার ঘূর্ণিপাকে...

মনের খবর আর কে রাখে?

হৃদয় এখন বন্ধ তালায়-

কান ভরে যে ঝালাপালায়-

কতশত বকবকানি...

ধর্মের কল নড়ে না জানি,

ডাঁশ মাছিদের কামড়খানি-

সহ্য কি হয়!

মানুষ আমি।